কিয়ামতের কঠিন দিনে যে ৭ ব্যক্তি আরশের ছায়ার নিচে থাকবে।
যে সাত ব্যক্তি আরশের ছায়ায় থাকবে।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছেন আশা করি সকলেই ভাল আছেন।
প্রিয় বন্ধুরা কাল কিয়ামতের দিন, যা অত্যন্ত ভয়াবহ একটি দিন। পবিত্র কুরআনের মধ্যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেই দিবস সম্পর্কে বলেন, كان مقداره خمسين الف سنة
অর্থাৎ সেদিনের পরিমাণ হবে ৫০০০০ বছরের সমান।
সেই কঠিন দিনে সূর্য থাকবে মানুষের একেবারে মাথার উপরে। সবাই নিজ নিজ পাপ অনুসারে ঘামের সাগরে ভাসতে থাকবে।
কারো হাঁটু পর্যন্ত ঘাম হবে, কারো কোমর পর্যন্ত, কেউবা ঘামের সাগরে ডুবে যাবে।
আজ কোটি কোটি মাইল দূরে আমাদের থেকে সূর্য, তারপরও আমরা প্রচন্ড গরমের মৌসুমে তার তাপ সহ্য করতে পারি না। কিন্তু পরকালে এত অধিক বছর পর্যন্ত কি করে সূর্যের তাপে আমরা দাঁড়িয়ে থাকবো।
কিন্তু সেই কঠিন দিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এমন সাত ধরনের বান্দা রয়েছেন, যারা আল্লাহ তাআলার আরশের ছায়ায় খুব আরামের সাথে বসে থাকবেন।
পরকালের দিবস নিয়ে তাদের কোন চিন্তাও থাকবে না এবং তাদের কোন হিসাব-নিকাশের প্রয়োজন হবে না।
তাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যেদিন আল্লাহ পাকের ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহ তা'আলা সাত ব্যক্তি কে নিজের ছায়ায় ছায়া দান করবেন।
(১) ন্যায়পরায়ণ বাদশা। অর্থাৎ যে বাদশা ইনসাফের সাথে বিচার করে থাকে।যার সকল কাজে ইনসাফ থাকে।সে কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়ায় থাকবে।
(২) ওই যুবক, যে তার যৌবন কাটিয়েছে আল্লাহ তাআলার ইবাদতের মধ্যে।
(৩) ওই ব্যক্তি যার অন্তর সবসময় মসজিদের সাথে লেগে থাকে, মসজিদ থেকে বের হবার পর, আবার সেখানে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত।
(৪) ওই দুই ব্যক্তি যারা একে অপরকে ভালোবাসে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। তারা দুইজন মিলিত হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং আলাদা হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
(৫) সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে আর অশ্রু বিসর্জন দেয় তার দুই চক্ষু দ্বারা।
(৬) ওই ব্যক্তি যাকে কোন সম্ভ্রান্ত সুন্দরী নারী আহ্বান করে, আর সে উত্তরে বলে আমি আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করি।
(৭) ওই ব্যক্তি যে দান করে এবং তার গোপন রাখে এমনকি তার বাম হাতেও জানে না, তার ডান হাত কি দান করেছে।
