এক মুষ্টি দাড়ি রাখার প্রমাণ। দৈনিক ইসলামিক বার্তা ২৪

 

জেনে নিন এক মুষ্ঠি দাড়ি রাখার দলিল 



প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমি আলোচনা করব এক মুষ্ঠি দাড়ি রাখার দলিল বা প্রমাণ কি সেই সম্পর্কে।

হাদিস ও সিরাতের কিতাব গুলোতে হুজুর সাঃ এর দাড়ি রাখার যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা থেকে বোঝা যায় যে লম্বা দাড়ির সীমানা কমপক্ষে এক মুষ্টি পরিমাণ।
১] হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ি ঘন ছিল এবং তিনি নিজ দাড়িতে খিলাল করতেন।
যে নামাজে কেরাত আসতে পড়া হয় সেই নামাজের মধ্যে তার দাড়ি মোবারক নাড়াচাড়া দেখেই তিনি যে তাতে কেরাত পড়তেন তার অনুমান করা হতো।
তিনার দাড়ি মোবারক তিনার মুখের আশপাশ সীনা মোবারককে ঢেকে রাখত। তিনি দাড়িকে চিরুনি দিয়ে পরিপাটি করে রাখতেন।
উল্লেখ্য যে উক্ত বিবরণ গুলো লম্বা দাড়ি ছাড়া খাটো দাড়িতে সত্য সাব্যস্ত হয় না।
২] হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন তোমরা গোঁফ খাটো করো দাড়ি লম্বা করো এবং অগ্নি পূজারীদের বিরোধিতা কর।
উল্লেখ্য যে দাড়ি লম্বা তো সে যুগের মুমীন কাফের সমস্ত আরবীদের ই অভ্যাস ছিল। তারপরেও দাড়ি লম্বা করার এ নির্দেশ বাণীর রহস্য কি তার  ভাবার বিষয়
হাদীসটির শেষের অংশের দিকে তাকালে এটা সহজেই বুঝা যায় যে শুধু দাড়ি লম্বা রাখাই ইসলামের উদ্দেশ্য নয় বরং পরিমাণ নির্ধারিত করে অগ্নি পূজারীদের বিরোধিতা ও ইসলামের উদ্দেশ্য।
ইতিহাস গ্রন্থ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে সে যুগের অগ্নি পূজারীদের দ্বারি মুন্ডানো অপেক্ষা দারে খাটো করার রেওয়াজই ব্যাপক ছিল।
সুতরাং হাদিসটির অর্থ হবে তোমরা অগ্নিপূজারীদের নেই দাঁড়ি মুণ্ডা বিনা এবং তাদের বিরোধিতা করবে।
এখন সমস্যা হল দ্বারের ওই পরিমাণ টা নিয়ে যা ইসলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
সে পরিমাণটা কি যা জানার দ্বারা অগ্নি পূজারীদের বিরোধিতা এবং দাড়ির উপর আমল করা উভয়টাই সম্ভব হবে।
সহি হাদিস সমূহের প্রকাশ্যভাবে এর পরিমাণটি উল্লেখ না থাকাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের রায় ও আমলেই শরীয়ত নির্ধারিত পরিমাণটি জানার একমাত্র পন্থা, সাহাবা পরবর্তী যুগের লোকদের জন্য।
কারণ সমস্ত মুসলিম উম্মতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এটাই যে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন কুরআনে কারীমের আমলের নমুনা বা বাস্তব তাফসীর।
আর সাহাবীগণ হলেন হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলে নমুনা বা ব্যাখ্যা স্বরূপ।
কুরআনে পাকে বর্ণিত কোন আয়াতের অর্থ বোঝা না গেলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বা আমল দেখলে তা সহজেই বুঝে আসবে।
আর হাদিসে বর্ণিত কোন বিষয়ের অর্থ বুঝে না আসলে সাহাবীগণের আমল বা কাজকর্ম দেখে তা বুঝে নিতে হবে।
অস্পষ্ট অর্থ বহনকারী হাদিসের সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা বুঝার জন্য সাহাবীগণের আমল যে মিয়ার বা মানদন্ড এ বিষয়টি গ্রহণযোগ্য ইসলামিক কিতাব সমূহের স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
আর সমস্ত হাদিস বিশারদ মুহাদ্দিসগণ এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে কোন একটি হাদিস যদি শর্তবিহীন বর্ণিত হয় আর ওই হাদিসটির দাবি বা বর্ণনাকারী হাদিসটির উপর আমল করার সময় কোন শর্তসহ আমল করেন তাহলে তার বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শর্তবিহীন হাদিসটিতে এ শর্তটি নিহিত আছে বলে মেনে নিতে হবে।
অর্থাৎ বর্ণনাকারী সাহাবীর আমল  তার বর্ণিত হাদিসটির ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য হবে।
যেমন উপরে বর্ণিত দাড়ির হাদিসটিতে মুষ্টি পরিমানের কথা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ নাই।
অথচ হাদীসটির বর্ণনাকারীরা মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখার ওই অভ্যস্ত ছিলেন।
এখন প্রশ্ন জাগে তাহলে এ হাদিসটির বর্ণনাকারী সাহাবীগণ যেমন হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু প্রমুখ সাহাবীগণ উক্ত পরিমানটি কোথায় পেলেন?
জবাবে বিজ্ঞ আলেমগণ বলেন যে অসম্ভবের কিছু নয় যে তারা হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  থেকে শুনি অথবা রাসুল সাঃ এর আমল স্বচোখে দেখে দাড়ির এই সীমানাটি  নির্ধারণ করেছেন।
এ ব্যাখ্যা মেনে না নিলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণের উপর হাদিসের উপর আমল না করার বা হাদিস না বোঝার অভিযোগ আরোপিত হয়। এমনকি নিজের বর্ণিত হাদিসের উপর আমল না থাকলে তাদের বর্ণিত হাদিসগুলো প্রত্যাখ্যানযোগ্য হয়ে যায় (নাউজুবিল্লাহ)
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করা বাস্তবতার নিরিখেত শুদ্ধ নয় শরীয়তের দৃষ্টিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সাহাবীগণ সম্পর্কে এজাতীয় খারাপ মন্তব্য করা ভ্রান্ত শিয়া সম্প্রদায়ের চিরাচরিত বদ অভ্যাস।
সুতরাং মুষ্টি পরিমাণ এর সীমানাটি প্রত্যক্ষভাবে সাহাবীগণ থেকে সাব্যস্ত দেখা গেলেও পরোক্ষভাবে তার সীমা  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম থেকেই সাব্যস্ত।
 মোট কথা লম্বা দাড়ি রাখা সম্পর্কীয় নির্দেশ মূলক হাদিস সমূহে লম্বার লম্বার সীমানার উল্লেখ পরিষ্কারভাবে নেই।
তবে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুষ্টি পরিমাণ লম্বা দাড়ি রাখতেন এবং সাহাবা গণ মুষ্টি পরিমাণের কমে দারি কর্তন করতেন না।
কাজেই কমপক্ষে মুষ্ঠি পরিমাণ হওয়াই, লম্বা দাড়ির নির্ধারিত শরীয়ী সীমানা। এর কম দাড়ি অর্থাৎ একেবারে মুন্ডিয়ে ফেলা বা খাটো রাখা 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন