কাবা শরীফের ইতিহাস কি? কাবা শরীফ কে নির্মাণ করেন?জেনে নিন। দৈনিক ইসলামীক বার্তা 24

 কাবা শরীফের ইতিহাস কি? কাবা শরীফ কে নির্মাণ করেন?জেনে নিন।



আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় মুসলিম ভাই ও বন্ধুরা আশা করি সকলেই ভাল আছেন।

আজ আমি আলোচনা করব, আমাদের প্রিয় স্থান, যেই জায়গাটি আমরা সবাই প্রাণভরে শ্রদ্ধা করি। যেদিকে ফিরে আমরা সবচেয়ে বড় ইবাদত তথা নামাজ আদায় করি।

যেখানে এক রাকাত নামাজ পড়লে এক লক্ষ রাকাতের সওয়াব। যেদিকে তাকিয়ে থাকলেও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। যেখানে সকল ধরনের রক্তপাত হারাম। যে জায়গায় মানুষের নিরাপত্তা রয়েছে। এমন জায়গা সম্পর্কে আজকে আমরা আলোচনা করব।

হ্যাঁ বন্ধুরা সেটি কোন জায়গা সেটি হল আমাদের মহান রব্বুল আলামীনের পবিত্র ঘর কাবা শরীফ।


আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সপ্তম আকাশের উপরে আল্লাহর আরশ এর নিচে একটি ঘর নির্মাণ করতে বলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে ফেরেশতারা একটি ঘর নির্মাণ করেছেন। যাকে বলা হয় বাইতুল মামুর। এটি ফেরেশতাদের ইবাদত খানা।

মুসলমানগন  যেভাবে কাবা ঘরকে তাওয়াফ করে, কাবা ঘরের নামাজ আদায় করেন, ফেরেশতারা ঠিক তদ্রূপ সেই বায়তুল মামুর কে তাওয়াফ করে সেখানেই ইবাদত বন্দেগী করে।

প্রতিদিন সেখানে ৭০ হাজার ফেরেশতা ইবাদত করে।

যেই সত্তর হাজার ফেরেশতা একবার সেই বায়তুল মামুরা ইবাদত করবে সে আর কেয়ামত পর্যন্ত সেখানে ইবাদত করার সুযোগ পাবে না। সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কত অধিক পরিমাণে ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন। কত মহান মালিক কত ক্ষমতার মালিক কত মহাপ্রাকশালী আমাদের সেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।


এই বাইতুল মামুর সম্পর্কে পবিত্র হাদিস দ্বারাও প্রমাণিত রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজের সময় যখন সপ্তম আকাশ অতিক্রম করেন। তখন দেখলেন এক ব্যক্তি একটি ঘরের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে চাইলেন লোকটি কে?


তখন তিনাকে জানানো হলো, তিনি হলেন আল্লাহর খলিল হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম। তুমি সেই বাইতুল মামুর সাথে হেলান দিয়ে বাসা ছিলেন।



আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে আকাশে অবস্থান করতে ফেরেশতারা যেমনিভাবে বাইতুল মামুর নির্মাণ করেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে জমিনে অবস্থানকারী ফেরেশতারা হযরত আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের পৃথিবীতে আগমনের প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে মুসলমানদের ইবাদত খানা হিসেবে কাবাঘর নির্মাণ করেন।


তখন ফেরেশতারা সেখানে ইবাদত বন্দেগী করতো।

আর এটিই হল পৃথিবীর বানানো সর্বপ্রথম ঘর।


কাবা শরীফের নির্মাণের ইতিহাস:

তাফসীরে রুহুল মা'আনী এর মধ্যে আছে, কাবা শরীফ ৫ বার নির্মাণ করা হয়।

(১) প্রথমবার কাবা শরীফের নির্মাণ করা হয় ফেরেশতাদের মাধ্যমে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ফেরেশতাদেরকে বললেন তোমরা সপ্তম আকাশ হয়ে অবস্থিত বাইতুল মামুর এর সোজাসুজি জমিনে কাবা ঘর নির্মাণ কর। 

তখন ফেরেশতারা বাইতুল মামুর সোজাসুজি জমিনে পবিত্র কাবাঘর নির্মাণ করেন যা ছিল লাল ইয়াকুত পাথর দ্বারা তৈরি। আর এটি নির্মাণ করেন হযরত আদম আলাইহিস সালাতু সালাম দুনিয়াতে আগমনের দুই হাজার বছর পূর্বে।

যখন হযরত নূহ আলাইহিস সালাতু সালামের জাতিকে ধ্বংস করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মহা প্লাবন দিয়েছেন, তখন এই কাবা ঘর আল্লাহতালা উঠিয়ে নেন।


পৃথিবীর ইতিহাসে যেহেতু এটি প্রথম ঘর, এই জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনের মধ্যে এরশাদ করেন

ان اول بيت وضع للناس للذى ببكة مباركا وهدى للعالمين ،فيه ايات بينات مقام ابراهيم

নিশ্চয়ই প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য মক্কায় নির্মাণ করা হয়। তার মধ্যে রয়েছে বরকত এবং হেদায়েত জগৎবাসীদের জন্য। এখন তার মধ্যে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শন, মাকামে ইব্রাহিম।


(২) অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাতু সালাম কে কাবা ঘর পূর্ণ নির্মাণ করার নির্দেশ দেন। অতঃপর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম নিজের সন্তান ইসমাইল আলাইহিস সালামকে নিয়ে কাবাঘর কোন নির্মাণ করেন।


যেমনটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনের মধ্যে এরশাদ করেন।

وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ ۝ وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ


অর্থাৎ যখন আমি ইব্রাহিমকে কাবা ঘরের স্থান সম্পর্কে ঠিকানা দিয়ে দিলাম। এই মর্মে যে তিনি সেখানে আমার সাথে কাউকে শরিক করবেন না। এবং আমার ঘরকে পবিত্র রাখুন তাওয়াফ কারী, সেখানে নামাজের দন্ডায়মানকারী, রুকুকারী এবং সেজদা কারীদের জন্য।


এবং আপনি মানুষকে আহবান করুন হজ্জ করার লক্ষ্যে, তখন তারা আপনার নিকট আসবে পায়ে হেঁটে হেঁটে, এবং প্রত্যেক কৃষ্ণ ঘোড়ার উপর সাওয়ার হয়ে,দূর দূরান্তের বিভিন্ন প্রান্তর হতে।


হযরত হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাতু সালাম কাবা ঘর নির্মাণ করার পর যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে আহবান করতে বললেন কাবা ঘরে হজ করার জন্য।

স্বপন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বললেন ওগো আল্লাহ, এখানে তো কোন মানুষ নেই এখানে তো কেবল মরুভূমি, জন মানব শূন্য এলাকা, এখানে আমি মানুষকে ডাকলে মানুষকে কি শুনবে।

দোকান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন হে আমার খলিল ইব্রাহিম, আপনি মানুষকে আহ্বান করুন আর মানুষের কানে তা পৌঁছে দেয়া আমার দায়িত্ব।


অতঃপর হযরতে ইব্রাহীম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম মাকামে ইব্রাহিমে দাঁড়িয়ে, অন্য এক বর্ণনায়  আমি কুবাইস পাহাড়ে দাঁড়িয়ে ডানে বামে সামনে পেছনে চতুর্দিকে ঘোষণা করলেন। হে মানব সকল তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য কাবা ঘর নির্মাণ করেছেন।


এবং তোমাদের জন্য হজ ফরজ করেছেন। তোমরা তিনার হুকুম পালন করো।



আল্লাহপাক হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের এই আওয়াজ ওই সময় পৃথিবীতে যারা ছিল সবার কানে পৌঁছে দেন এবং যারা কখনো পৃথিবীতে আসেনি আর রুহের জগতে ছিল আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের কাছেও এই আওয়াজ পৌঁছে দেন।


তখন তারাই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ডাকে সাড়া দিয়ে লাব্বাইক বলেছে। তারাই কিয়ামত পর্যন্ত দলে দলে এসে হজ করবে।


(৩) এরপর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পরে কুরাইশরা কাবাঘর কোন নির্মাণ করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কাজে শরিক ছিলেন। আর তখনও তিনি নবী হননি বরং ঘটেছে নবুয়ত প্রাপ্তীর ১৫ বছর পূর্বে।


ওই সময় কোরাইশদের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে হাজরে আসওয়াদ পাথর যথাস্থানে রাখার ব্যাপারে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে।

যেহেতু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় পাথর, তাই আরবের বিভিন্ন গোত্র চেয়েছিল যে এটি আমরাই  যথাস্থানে রাখবো।


করতে কি এরকম দাবি করতে লাগলো।

অতঃপর যখন কোন মীমাংসা করতে পারলো না বরং যুদ্ধ বাধার সম্ভাবনা দেখা দিল।

তখন পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত হল যে আগামীকাল সকালে যে প্রথম কাবা ঘরে প্রবেশ করবে, সে যেই ফয়সালা দিবে আমরা তা মেনে নিব।


দেখা গেল পরের দিন সবচেয়ে প্রথমে আমাদের নবী মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র ঘরে প্রবেশ করেছেন।


এটি মক্কার কুরাইশরা দেখে সবাই এক বাক্যে মেনে নিলেন যে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ফয়সালা দিবে আমরা সবাই তা মেনে নিব।

অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমরা একটা চাদর নিয়ে আসো আর এই চাদরের মধ্যে পাথরটি রাখো। এবং প্রত্যেক গোত্রের থেকে একজন করে এই চাদরটি ধরে তাকে যথাস্থানে নিয়ে আসো।


এরপর সবাই চাদরকে ধরে যখন যথাস্থানে নিয়ে গেলেন তখন মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথরটিকে তাদের থেকে উঠিয়ে তারপর স্থানে রেখে দিলেন। এতে করে যে সমস্যা ছিল তার সমাধান হয়ে গেল।


(৪) এরপর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু পুনঃনির্মাণ করেন।


(৫) অতঃপর হযরত হাজ্জাজ বিন ইউসু ফ মক্কার গভর্নর হওয়ার পরে সে আবার পুনরায় নির্মাণ করেন।


তারপর কিছু কিছু সংস্কার বিভিন্ন সময় হলেও মূল ভিত্তি তার উপরে রয়েছে।

কাবা শরীফের আয়তন কতটুকু

কাবাঘর টি হল  বর্গ আকৃতির, কাবাঘরের উচ্চতা হল  ৪৫ ফুট। পূর্বের দেয়াল টি হল ৪৮ ফুট ৬ ইঞ্চি


এবং পশ্চিম পাশের  দেয়াল টি হল ৪৬ ফুট ৫ ইঞ্চি।

উত্তর পার্শ্বের দেয়াল টি হলো  { তা পবিত্র হাতিমের পাশ অবস্থিত} ৩৩ ফুট এবং দক্ষিণ দিকের দেওয়ালে [কালো পাথর কর্নার থেকে ইয়েমেনি কর্নার] ৩০ ফুট।


 কাবাঘরের দুইটি দরজা এবং একটি জানালা ছিল। কিন্তু বর্তমানে শুধু একটি দরজা আছে।

 ভূমি থেকে দরজাটি ২.৫ মিটার (৪.২ ফুট) উচ্চতায় রয়েছে। যার দৈর্ঘ্য হলো ৩.৬ মিটার [১১.৮ ফুট] এবং প্রস্থ ১.৬৮ মিটার [৫.৫ ফুট] এই  দরজাটি বাদশা খালিদ দুই শত আশি কেজি স্বর্ণ দ্বারা তৈরি করছেন।


মসজিদে হারামে নামাজের ফজিল।


বিভিন্ন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে মসজিদে হারামের মধ্যে নামাজ পড়া অন্য মসজিদে নামাজ পড়ার থেকে এক লক্ষ গুণ বেশি সওয়াব।

________________________________________

ট্যাগ

কাবা শরীফের ইতিহাস 

কাবা শরীফের ইতিহাস কি

পবিত্র কাবা শরীফের ইতিহাস

পবিত্র কাবা শরীফের ইতিহাস বাংলা

কাবা শরীফ কে নির্মাণ করেন

প্রথম কাবা কে তৈরি করেন


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন