যে তিন ব্যক্তিকে সবার আগে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

 যে তিন ব্যক্তিকে সবার আগে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। লৌকিকতার ভয়াবহ পরিণাম।



আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছেন আশা করি সকলেই ভাল আছেন।
প্রিয় বন্ধুরা মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তারাই ইবাদত করার জন্য। তাই আমাদের ইবাদত বন্দেগী করতে হবে একমাত্র আল্লাহ তাআলাকে দেখানোর জন্যই।
কারণ লোকদেখানো ইবাদাত বন্দেগী করা, এটিও এক ধরনের শেরেক। যার শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ।

নিয়তকে খাঁটি না করে ইবাদত বন্দেগী করলে, এর প্রতিদানে সে জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই পাবে না।
তাই আমাদের নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত কোরবানি সহ প্রত্যেকটি ইবাদত বন্দেগী একমাত্র আল্লাহ তাআলা কে রাজি খুশি করার জন্যই করতে হবে।

কাল কিয়ামতের দিন জাহান্নামে যে তিন ব্যক্তিকে প্রথমে নিক্ষেপ করা হবে, যাদেরকে দিয়ে জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। তারা কিন্তু কাফের হবে না মুশরিক হবে না। বরং তারা হবে ঐ সকল মুমিন বান্দা, যারা ইবাদাত বন্দিকে করেছে ঠিকই ,কিন্তু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয় বরং মানুষকে দেখানোর জন্য।

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কাল কেয়ামতের দিন সবার আগে যাদেরকে হিসাবের জন্য ডাকা হবে, তাদের মধ্য থেকে একজন হবে দানশীল, আরেকজন হবে আলেম, এবং ওপর একজন হবে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা শহীদ কে।

আল্লাহ তাআলা সবার আগে শহীদ কে ডেকে বলবেন, আমি তোমাকে এই এই নিয়ামত দান করেছি, তুমি আমার নেয়ামতের কি শুকরিয়া আদায় করেছো?

 তখন শহীদ ব্যক্তি বলবে, ওগো আল্লাহ আমি তোমার দেয়া  মাল তোমাকেই সন্তুষ্ট করার জন্য খরচ করে তোমার রাস্তায় জিহাদ করেছি এবং শহীদ হয়েছি।
তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলবেন তুমি আমার জন্য জিহাদ করনি, বরং লোক দেখানোর জন্য করেছ। লোকে তোমাকে বীর বাহাদুর বলবে গাজী বলবে এজন্যই তুমি জিহাদ করেছ। 
তুমি যা চেয়েছ তা দুনিয়াতেই পেয়ে গেছো। এখন আর তোমার কোন প্রাপ্য নেই। তখন তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।


এরপর একজন দানবীর লোককে উপস্থিত করা হবে, তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, আমি তোমাকে এই এই নিয়ামত দান করেছি, তুমি এগুলোর কি করেছ?

তখন লোকটি বলবে ওগো আল্লাহ, আমি আপনার এই সকল নেয়ামত পেয়ে বেশি বেশি দান খয়রাত করেছি। আপনার সন্তুষ্টির জন্য আপনার রাস্তায় এই সম্পদ গুলো ব্যয় করেছি।
তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ তুমি এগুলো আমার সন্তুষ্টির জন্য করনি। বরং লোকে তোমাকে দানবীর বলবে, এজন্যই তুমি দান খয়রাত করেছ।
তুমি যা চেয়েছো তা দুনিয়াতেই পেয়ে গেছো এখন আর তোমার কোন প্রাপ্য নাই। তখন তাকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

এরপর একজন আলেমকে নিয়ে আসা হবে, তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, আমি তোমাকে যে জ্ঞান দান করেছি, তুমি তার কি করেছ?
তখন আলেম লোকটি বলবে, ওগো আল্লাহ আমি আপনার দেয়া সেই জ্ঞান চর্চা করেছি। আপনাকে খুশি করার জন্য তা অন্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।
তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি এগুলো এই জন্য করেছ যে লোকে তোমাকে আলিম বলবে, তুমি যা চেয়েছো তা দুনিয়াতেই পেয়ে গেছো, এখন আর তোমার কোন প্রাপ্য নেই, তখন তাকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

প্রিয় বন্ধুরা এটি হল হাদিসের মূল বিষয়। অতএব আমাদের সকল ইবাদত বন্দেগী হতে হবে একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্য।
লোক দেখানো কোন ইবাদত যেন আমাদের দ্বারা সংঘটিত না হয়।
আমাদের নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত কোরবানি সহ যাবতীয় ইবাদত বন্দেগী একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করার জন্যই হতে হবে। অন্যথায় রয়েছে কাল কেয়ামতের দিন আমাদের জন্য কঠিন বিপদ। এই সকল ইবাদাত বন্দেগী কাল কিয়ামতের র দিন ধূলায় মিশিয়ে দেওয়া হবে।
এজন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সতর্ক করে পবিত্র কুরআনে কারীমের মধ্যে এরশাদ করেন।
قل ان صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله رب العالمين
অর্থাৎ আপনি বলুন নিশ্চয়ই আমার নামাজ আমার কোরবানি আমার জীবন আমার মরণ সবকিছু বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার এই জন্য।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে ইখলাসের সাথে ইবাদত বন্দেগী করে কালকেয়ামতের দিন পুরস্কার অর্জন করে জান্নাত বাসী হওয়ার তৌফিক নসিব করুন আমীন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন