হজ্জের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস islamic barta tips2024(2

 হজ্জের গুরুত্ব ও ফজিলত জেনে নিন। রওজা জিয়ারত এর ফজিলত।হজ্জের গুরুত্ব ও ফজিলত। হজ্জের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস।হজ্জ না করার শাস্তি কি।






عن ابي هريره رضي الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من حج لله فلم يرفث ولم يفسق رجع كيوم ولدته امه

অর্থ হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে হজ করেছে এবং তাতে অশ্লীল কথা বলেনি এবং অশ্লীল কাজ করেনি। সে হজ থেকে ফিরবে সেদিনের ন্যায়, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছে। অর্থাৎ একেবারে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে ফিরবে।


عن ابي هريره رضي الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم العمرة الى العمرة كفاره لما بينهما والحج المبرور ليس له جزاء الا الجنه

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন এক ওমরা থেকে অন্য ওমরা তার মধ্যবর্তী সকল গুনাহের জন্য কাফফারা। এবং কবুল করা হয় তার প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।

عن ابن عباس رضي الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان عمرة في رمضان تعدل حجه

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন রমজান মাসের ওমরা হজের সমান।


عن علي رضي الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من ملك زادا وراحلة تبلغه الى بيت الله ولم يحج فلا عليه ان يموت يهوديا او نصرانيا وذلك ان الله تبارك وتعالى يقول ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি বাইতুল্লা পৌছার পথ খরচের মালিক হয়েছে অথচ হজ করেনি সে ইহুদি হয়ে মরুক অথবা নাসারা হয়ে তাতে কিছু আসে যায় না।

আর তা এ কারণেই যে আল্লাহ তাআলা বলেন মানুষের প্রতি বাইতুল্লাহর হজ ফরজ যদি সে ব্যক্তি সেই পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য লাভ করে।


عن ابن مسعود رضي الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تابعوا بين الحج والعمرة فانهما ينفيان الفقر و الذنوب كما ينفى الكير خبث الحديد و الذهب والفضة وليس للحجة المبرورة ثواب الا الجنه

হযরত ইবনে মাসউদ রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হজ ও ওমরা সাথে সাথে করো কেননা এ দুটি দারিদ্রতা ও গুনাহ দূর করে, যেভাবে হাবর লোহা এবং স্বর্ণ ও রুপার ময়লা দূর করে। কবুল করা হজের সাওয়াব জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।


عن بن عمر رضي الله تعالى عنه مرفوعا من حج فزار قبري بعد موته كان كمن زارني في حياتي

হযরত ইবনে ওমর রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম উল্লেখ করে বলেন যে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ করার পর আমার জিয়ারত করেছে আমার মওতের পরে, সে হবে ওই ব্যক্তির ন্যায় যে আমার জীবনে আমার জিয়ারত করেছে।

করলে করলে।

 قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من سار قبري وجبت له شفاعتي

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে আমার কবর জিয়ারত করলো তার জন্য আমার শাফায়েত ওয়াজিব ।


প্রিয় বন্ধুরা উপর উল্লেখিত হাদিস সমূহের দ্বারা আমরা হজ করার গুরুত্ব ফজিলত এবং হজ্ব না করার ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারলাম।


 হজ্জ করার ফজিলত যেমন উচু পর্যায়ের, তৌফিক থাকা সত্ত্বেও তা বর্জন করার ভয়াবহতাও তেমনি ভীষণ কঠিন ও মারাত্মক। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ বর্জনকারী সম্পর্কে বলেছেন, যে চাই সে ইহুদি হয়ে মরুক অথবা খ্রিস্টান হয়, এতে আমার কোন পরোয়া নেই।

রাসুল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ তরককারীকে ইহুদি খ্রিস্টান এর সাথে তুলনা করেছেন। কেননা তারা নামাজ পড়তে ঠিক কিন্তু হজ করত না। আর বেনামাজিকে তুলনা করেছেন কাফের মুশরিকদের সাথে কেননা তারা হজ করত কিন্তু নামাজ পড়তো না।


আমাদের সমাজে এমন বহু লোক আছে, যাদের বাৎসরিক কোন আয় না থাকার কারণে যাকাত ফরজ হয় না। তাই সে মনে করে যে, আমার উপর যাকাত ফরজ হয়নি তাহলে হজ ফরজ হবে কিভাবে?


 অথচ দেখা যায় তার এমন স্থাবর সম্পত্তি তথা জায়গা জমি রয়েছে, যার থেকে সে আংশিক বিক্রি করলেই হজ্জ করতে পারে এবং বিক্রয়ের দ্বারা তার জীবন যাপনের কোন অসুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।


এই ব্যক্তির উপর হজ ফরজ হয়ে আছে অথচ সে সামান্য চিন্তা করছে না। সে নিজের মৃত্যু কালীন ভয়াবহতা নিয়ে কোন চিন্তা করেনা।

আবার এমন লোক রয়েছে যারা মনে করতে থাকে যে, হজ্জ তো করব বৃদ্ধ কালে। যৌবনকালে হজ করব কেন? 


 তাদের দুটি কথা স্মরণ রাখা উচিত। প্রথমত, তার জীবনের এমন কোন গ্যারান্টি নেই যে সে বৃদ্ধ হবে, হতে পারে সে যৌবনকালে মৃত্যুবরণ করবে ।


দ্বিতীয়তঃ হজের সফর খুবই কষ্টকর যার জন্য প্রয়োজন অনেক শক্তি সামর্থের। আর বৃদ্ধকালে সাধারণত মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে, যার কারণে হজের সবগুলো কাম ঠিকমতো আদায় করা তার জন্য সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। তাই হজ্ব ফরজ হওয়ার পর কাল বিলম্ব না করে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি হজ করে নেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।


হজের ফজিলত সম্পর্কে মহিউস সুন্নাহ শাহ মাওলানা আবরারুল হক সাহেব রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন আল্লাহর ওলী হওয়ার তিনটি স্তর একটি দীর্ঘমেয়াদী আরেকটি মধ্য মেয়াদী আর তৃতীয়টি স্বল্প মেয়াদি।


 যেমন মনে করুন কোন জায়গায় যাওয়ার তিনটি পথ রয়েছে একটি দীর্ঘ একটি কিছু সংক্ষিপ্ত আরেকটি খুবই সংক্ষিপ্ত।

ওলী হওয়ার দীর্ঘমেয়াদী স্তর হল ফরজ ওয়াজিব সুন্নত ও মুস্তাহাব সহ সকল প্রকার নেক আমল করা ও সর্বপ্রকার গুনাহ বর্জন করা। সাথে সাথে আল্লাহ তালার নৈকট্য লাভের উদ্দেশে সার্বিকভাবে মুজাহাদা করতে থাকা।


আরেকটি এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত এটি হলো মধ্য মেয়াদী। তাহলো রমজান শরীফের রোজা, কেউ যদি সঠিকভাবে রমজানের রোজা রাখে এবং তার আদব রক্ষা করে তাহলে সে অবশ্যই আল্লাহর ওলী হয়ে যাবে। রমজানের এক একটি রোজা মুত্তাকী হওয়ার এক একটি মহা ঔষধ।


 আর স্বল্পমেয়াদী হল যথাযথ ভাবে হজের মাধ্যমে মানুষ খুব সহজেই আল্লাহর ওলী হয়ে যায়।

হে আল্লাহ তুমি আমাদের অন্তরে মক্কা-মদিনার মহাব্বাত সৃষ্টি করে দাও এবং কাফনের কাপড় পড়ার আগে এহরামের কাপড় পড়ার তাওফিক দাও।



হজ্জের ফজিলত

হজ্জের ফজি

লত ও তাৎপর্য

হজ্জের ফজিলত কি

হজ্জ না করার শাস্তি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন