হজ্জ অর্থ কি? হজ্জ কি ও কেন? হজ্জ ফরজ হওয়ার জন্য শর্তগুলো কি কি? ২০২৩/islamic barta24

 হজ্জ অর্থ কি? হজ্জের ইতিহাস? হজ্জ ফরজ হওয়ার জন্য কী কী শর্ত?


হজ্জ অর্থ কি?
হজ্জ কি ও কেন?
হজ্জের ইতিহাস ও পটভূমি কি?
হজ্জের গুরুত্ব ও তাৎপর্য কি?
হজ্জের হিকমত কি?
হজ্জের সময় কখন?
হজ্জ ফরজ হওয়ার জন্য কী কী শর্ত? 


আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। কেমন আছেন প্রিয় বন্ধুরা আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো আছি।

আজ আমি আপনাদের জন্য হজ্জ সম্পর্কে আলোচনা করব।

প্রথমেই আমরা জেনে নেই হজ্জ কি? হজ কাকে বলে? সেই সম্পর্কে।


ভূমিকা:

প্রিয় বন্ধুরা, আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনের মধ্যে এরশাদ করেন, আমি জিন জাতীয় মানব জাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।


ইবাদতের প্রকার: আর এই ইবাদত হলো মোট তিন প্রকার।

(১) শুধু শারীরিক ইবাদাত। অর্থাৎ পালন করতে কোন টাকা পয়সার প্রয়োজন হয় না কোন অর্থ ব্যয় হয় না শুধু শরীরের প্রয়োজন হয় শরীরকে সামান্য কষ্ট দিতে হয়। তাহলে যেমন নামাজ রোজা ইত্যাদি। নামাজ পড়তে কোন টাকা লাগে না রোজা রাখতেও কোন টাকা পয়সা প্রয়োজন হয় না, তাই এগুলো হল শারীরিক ইবাদত।




(২) শুধু আর্থিক ইবাদত। আর তা হল যাকাত সদকা ইত্যাদি। এই বাতাসের ক্ষেত্রে শারীরিক কোন কষ্টের প্রয়োজন হয় না শুধু তার ধন-সম্পদ ব্যয় হয়। তাই এটা হল আর্থিক ইবাদ।


(৩) শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত: এই ইবাদতটি শারীরিক কষ্ট ও সম্পদ উপায়টির সমন্বয়ে সংঘটিত হয়ে থাকে আর তা হলো হজ্জ।

আসুন আমরা প্রথমে হজ্জের পরিচয় জেনে নেই।


হজ্জ কাকে বলে?

হজ্জ এটি আরবি শব্দ (الحج) এর অর্থ হলো:

(ক) القصد অর্থাৎ ইচ্ছা করা।

(খ)الارادة অর্থাৎ সংকল্প করা

(গ)الزيارة অর্থাৎ সাক্ষাত করা

(ঘ)القصد الى معظم অর্থাৎ কোন মহৎ জিনিসের প্রতি ইচ্ছা।




**হজের পারিভাষিক অর্থ:

الحج هو زيارة مكان مخصوص، فى وقت مخصوص، بطريق مخصوص

নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পন্থায় নির্দিষ্ট স্থান জিয়ারত করার নাম হচ্ছে হজ্জ।


আবার কেউ কেউ বলেনঃ

الحج هو قصد البيت الحرام العقرب الى الله بافعال مخصوص فى زمان مخصوص

অর্থাৎ মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কার্যাবলীর মাধ্যমে সম্মানিত বায়তুল্লাহ জিয়ারতের সংকল্প করার নামই হলো হজ্জ।


হজ্জের ইতিহাস ও পটভূমি।

হজের রয়েছে সুপ্রাচীন ইতিহাস ও দীর্ঘ পথভূমি। এই হজের প্রত্যেকটি কাজ ঐতিহাসিকভাবে স্মৃতি বিজড়িত ও তাৎপর্যপূর্ণ।

হযরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আসার পর অনেকদিন যাবত তারা পরস্পরের বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত আরাফার ময়দানে তারা পরস্পরে একত্রিত হলেন।

তার ওই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আদম সন্তানগণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর আরাফার মহামিলন প্রান্তরে সমবেত হয়ে থাকেন।




এভাবে ছাপা মারওয়া সায়ী করা বা সাফা মারওয়া পাহাড়ের দৌড়ানো মিনায় শয়তানকে কম করে নিক্ষেপ করা, এবং কোরবানির ইতিহাস হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এবং তিনার স্ত্রী হাজেরা আঃ ও তিনার পুত্র ইসমাইল আলাইহি সালামের সাথে জড়িত।


হযরত আদম আলাই সালাম থেকে আজ পর্যন্ত সর্বযুগের সব রাসুল ও আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ পরম ব্যাকুলতার সাথে আল্লাহর ঘর তাওয়াফ এবং হাজার বছর আত্মনিবেদনের মাধ্যমে রচিত হয়েছে হজ ও জিয়ারতের সুবিশাল প্রেক্ষাপট।


হজের গুরুত্ব ও তাৎপর্যঃ

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হলেন হাকীম ও প্রজ্ঞাময়। তিনার কোন কাজেই হেকমত ও রহস্য থেকে মুক্ত নয়। তিনার সকল কাজী হেকমত নিহিত রয়েছে। কোন কাজে তিনি হিকমত ছাড়া করেন না। চাই এটা আমাদের বোঝা আসুক বা না আসুক।

 ওলামায়ে কেরাম হজ্জের তাৎপর্যের বর্ণনা করেছেন।


** হজ আখেরাত গামী সফরের এক বিশাল নিদর্শন অর্থাৎ মানুষ মরনের সময় যেমন বাড়ি -ঘর দোকানপাট, নিজের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব ছেড়ে কয়েক টুকরা সাদা কাপড় নিয়ে খাটিয়াতে আরোহন করে আখেরাতের যাত্রী হয়ে যান।

 তেমনিভাবে হজের ক্ষেত্রেও মুসলমান সকল কিছুর মায়া ত্যাগ করে সাদা দুই টুকরা কাপড় নিয়ে, তাওয়াফে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান।


 আরাফার ময়দানে সূর্যের প্রচন্ড তাপের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের অবস্থান হাশরের ময়দানের একটি নমুনা বলে মনে হয়। এটাই হল হজ্জের প্রধান হাকিকত তথা তাৎপর্য।


হজ্জ কি ও কেন?

আজ হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইবাদতের মধ্যে হতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা ইসলামের ভিত্তির মধ্য হতে একটি ভিত্তি।

হাদিস শরীফের মধ্যে আছে

بنى الاسلام على خمس، شهادة أن لا الله الا الله وان محمدا ر سول الله ،واقام الصلوة،وايتاء الزكوة،والحج، وصوم رمضان 

অর্থাৎ ইসলামের ভিত্তি হল পাঁচটি জিনিসের উপর।

১] এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহতালার রাসুল।

২] নামাজ কায়েম করা

৩] যাকাত প্রদান করা

৪] হজ্জ করা

৫] রমজানের রোজা রাখা।

অতএব হজ্জ এটি ইসলামের ভিত্তি সমূহের মধ্য থেকে একটি ভিত্তি। যা কারো উপর ফরজ হলে তা আদায় না করলে সে দ্বীনকে নষ্ট করেছে বলে গণ্য হবে।


হজ্জের হিকমত কি?

আজ আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি অনন্য মাধ্যম।

অর্থাৎ প্রেমাস্পদের আকর্ষণে মাতোয়ারা হয়ে প্রেমিক ছুটে চলে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে।

কখনো বা মক্কায় কখনো মদিনায় কখনো আরাফায় আবার কখনো মুজদালিফায়।

এসব স্থানে উপস্থিত হয়ে হজ্জ আদায়কারীগণ মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি ও কাকুতি মিনতি করে। হজ্জের প্রতিটি আমলেই আমরা দেখতে পাই আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালোবাসার অনুপম নিদর্শন।

আর আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা প্রদর্শন প্রকাশ করা এটি হল হজের একটি হিকমত।


হজ্জের সময় কখন?

হজের জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে এর বাইরে হজ আদায় করা জায়েজ নয়। এই সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন:

الحج أشهر معلومات

অর্থাৎ হল নির্দিষ্ট কিছু মাসে।

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন:

قال ابن عمر أشهر الحج شوال،وذوالقعدة،وعشر من ذى الحج

অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা বলেন হজের মাসসমূহ হচ্ছে শাওয়াল এবংজিলকদ এবং জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন।




হজ্জ ফরজ হবার জন্যে শর্ত কি কি?

প্রিয় বন্ধুরা, যেকোনো ব্যক্তির উপর হজ করা ফরজ নয়। বরং হজ্ব ফরজ হওয়ার জন্য ইসলামী শরীয়তে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যেমন

১] মুসলমান হওয়া। সুতরাং কোন কাফের বেদ্বীন যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেনি, তাদের উপর হজ করা ফরজ নয়।

২] স্বাধীন হওয়া। হজ ফরজ হওয়ার জন্য আরেকটি শর্ত হল স্বাধীনহতে হবে সুতরাং যে ব্যক্তি পরাধীন, অন্যের গোলাম তার উপর হজ করা ফরজ নয়।

৩]বালেগ হওয়া। সুতরাং নাবালেগের উপর হজ্জ করা ফরজ নয়।

৪] সুস্থ হওয়া। সুতরাং অসুস্থ ব্যক্তির উপর হজ ফরজ নয়।

৫] দৃষ্টি সম্পন্ন হওয়া।

 সুতরাং অন্ধ ব্যাক্তির উপর হজ করা ফরজ নয়।

৬]পাথেয় থাকা। অর্থাৎ পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ ছাড়া, হজ্জে যাওয়া থেকে নিয়ে হজ্ব শেষ করে বাড়িতে ফেরা পর্যন্ত খরচ গ্রহণ করার সামর্থ্য থাকা।

৭] রাস্তা নিরাপদ থাকা। সুতরাং রাস্তায় যদি শত্রুর ভয় থাকে, অথবা সরকারিভাবে যদি কোন বাধা নিষেধ থাকে তাহলে হজ করা ফরজ হবেনা।

৮] মহিলাদের সাথে স্বামী বা অন্য কোন মাহরাম পুরুষ থাকা।

বর্তমান আধুনিক বিশ্বের সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায়, ওলামায়ে কেরাম নারীদেরকে একা একা হজ পালন করাকে অবৈধ বলে মনে করেন। যদিও তাদের বসতবাড়ি 

কাবার কাছাকাছি বা ৪৮ মাইলের ভেতরে হয়।

৯] যানবাহনের সুবিধা থাকা।

১০] জ্ঞান সম্পন্ন হওয়া।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন