কুরবানি কি? কোরবানির কার উপর ওয়াজিব? কোন কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েজ আছে?What is sacrifice? What are the conditions for the obligatory sacrifice? Can any animal be sacrificed?

কুরবানী কি? কোরবানি ওয়াজিব ওয়ার জন্য কি কি শর্ত? কোন কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যায়?
What is sacrifice? What are the conditions for the obligatory sacrifice? Can any animal be sacrificed?

কুরবানী কি?

কুরবানী হলো নির্দিষ্ট প্রানীকে নির্ধারিত সময় অর্থাৎ জইলহজ্জ মাসের ১০,১১,১২তারিখের মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য চতুষ্পদ হালাল প্রানী জবাই করা।


কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত কি কি?কুরবানী ওয়াজিব হবার জন্যে শর্ত হলো

(১) বালেগ হওয়া।

অর্থাৎ কুরবানী দেয়ার জন্য বা কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য একটি শর্ত হলো, কুরবানী দাতা অবশ্যই বালেগ হতে হবে। কেননা নাবালেগের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয় না। কারণ সে এখনো শরীয়তের বিধান পালন করার উপযুক্ত হয়নি।

(২) জ্ঞানবান হওয়া। 

অর্থাৎ কোরবানির ওয়াজিব হওয়ার জন্য কোরবানি দাতা জ্ঞান বান হতে হবে সুতরাং পাগলের উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। চাই সে যত অধিক সম্পদের মালিক হোক না কেন।

(৩) স্বাধীন হওয়া।

কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কোরবানি দাতা স্বাধীন হওয়া জরুরি। যদি সে স্বাধীন না হয় বরং পরা ভুল হয় কারো গোলাম হয় তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।

(৪)মুকীম হওয়া।

অর্থাৎ কুরবানী ওয়াজ হওয়ার জন্য আরেকটি শর্ত হলো কোরবানির দাতা মুকীম হতে হবে অর্থাৎ নিজ বসবাসের স্থানে অবস্থান করতে হবে। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি সফরে থাকে তার উপরও কোরবানির ওয়াজিব নয়।

(৫) মুসলমান হওয়া।

অর্থাৎ কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য আরেকটি শর্ত হলো, কোরবানি দাতা মুসলমান হতে হবে। যদি সে মুসলমান না হয় বরং কাফের বেদ্বীন হয়, তাহলে তার উপরও কোরবানি করা ওয়াজিব নয়। কারণ সে তো এখনো ইসলাম ধর্মে প্রবেশই করেনি, তাই ইসলামের বিধি-বিধান তার উপর প্রযোজ্য নয়।

(৬) কোরবানির দিনগুলোতে নেসাবের  মালিক হওয়া।

অর্থাৎ জিলহজ্ব মাসের ১০,১১,১২ তারিখের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু ও ঋণ ব্যতীত কমপক্ষে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ কিংবা তার মূল্যের টাকা কিংবা ব্যবসায়ী সম্পদের মালিক হওয়া।

কোন কোন প্রাণী দ্বারা কুরবানী করা যাবে?

এবার আসুন আমরা জেনে নেই কোন কোন প্রাণী দ্বারা আমরা কুরবানী করতে পারব। আর তা হল বকরি, পাঠা, খাসি, ভেড়া, ভেরি, দুম্বা, গাভী, ষাঢ়, মহিষ ও উট।

কোরবানির কোন পশুতে কতজন শরিক হতে পারবে?

উট গরু মহিষের মধ্যে সর্বোচ্চ সাত ব্যক্তি শরিক হতে পারবে। এভাবে দুইজন তিনজন চারজন পাঁচজন ছয়জন যেকোনো সংখ্যায় লোক শরিক হতে পারবে এতে কোন সমস্যা নেই। এবং দুটি গরু এর মধ্যে ১৪ শরীক হতে পারবে।
আর ছাগল ভেড়া দুম্বা যতই মোটা তাজা হোক না কেন তার মধ্যে একজনের বেশি শরিক হতে পারবেনা অর্থাৎ প্রতিটি ভেড়া ছাগল দুম্বা দিয়ে এক ব্যক্তি কুরবানী করতে পারবে এর মধ্যে কোনো শরীর নেওয়া জায়েজ হবে না।

কুরবানী করার হুকুম ক?

কোরবানি করার মাধ্যমে বান্দা তার উপর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব থেকে সে মুক্তি লাভ করে। এবং পরকালে সে সাওয়াবের অধিকারী হয়।

কোরবানি কত প্রকার?

কোরবানি প্রথমে দুই প্রকার:
(১) ওয়াজিব কোরবানি (২) নফল কোরবানি।
**ওয়াজিব কোরবানি আবার তিন প্রকার:
(১) মান্নতের কুরবানী। এটি ধনী গরীব সকলের উপরই ওয়াজিব হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোরবানি করার মান্নত করে তাহলে তার উপর মান্নতের কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যায়। যদি তার সেই কাজটি পূর্ণ হয় তাহলে।

মান্নতের কোরবানির গোশতের হুকুম

মান্নতের কুরবানীর গোশতের হুকুম হলো, এই গোস্ত মানতকারী চাই সে গরিব হোক অথবা ধনী হোক, খেতে পারবেনা। এমনিভাবে কোন ধনী ব্যক্তিকে এই মান্নতের গোশত দিতে পারবে না।
এই দোস্ত কেবল দরিদ্র মানুষেরাই হতে পারবে। তাদের দরিদ্র মান্নাতকারী ব্যাক্তি খেতে পারবে না।
(২) যে ব্যক্তি লিসাব পরিমাণ মালের মালিক নয়। এমন ব্যক্তি কোরবানি দেয়ার জন্য কোন পশু ক্রয় করা। তাহলে এই পশু দ্বারা কুরবানী করাও ওই ব্যক্তির উপর ওয়াজিব হয়ে যায়।
এই গোস্ত কুরবানী দাতা ধনী-গরীব সবাই খেতে পারবে।

(৩) ১০ ১১ ১২ ই জিলহজ্ব এরমধ্যে যেই ব্যক্তি হিসাব পরিমাণ মালের মালিক হয় ওই ব্যক্তির উপরও কোরবানি করা ওয়াজিব।
এই গোস্ত ধনী গরীব আত্মীয়-স্বজন সবাই খেতে পারবে।

নফল কোরবানি

নফল কোরবানি হল এমন ব্যক্তির কোরবানি যে ধনী নয় এবং সে কুরবানীর নিয়তে কোন পশু ও ক্রয় করেনি বা কোন মান্নত করেনি অথচ সে কোরবানি করেছে বা কোন ধনী ব্যক্তি নিজের উপর কোন ওয়াজিব কোরবানি ব্যতীত অন্য কোন কুরবানী করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন