তাওবা কাকে বলে? তাওবা কবুল হওয়ার জন্য শর্তগুলো কি কি? তাওবার ফজিলত কি?২০২৩

তাওবা এর পরিচয়? তাওবা কবুল হওয়ার জন্য শর্তগুলো কি কি?তাওবার ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের বাণী।


 সূচী:

তাওবা কাকে বলে ?

তাওবা কবুল হওয়ার শর্ত গুলো কী কী?

তাওবার ফজিলত কী?

তাওবা সম্পর্কে কুরআনের আয়াত

তাওবা সম্পর্কে হাদীসের বাণী 

তাওবা এর পরিচয়।

তাওবা এর শাব্দিক অর্থ হল ফিরে আসা। এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো গুনাহ থেকে ফিরে আসা।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাওবা হল বিগত গুনাহর জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে ওই গুনাহর ধারে কাছে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।

হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন, অতীতের কৃতকর্মের উপর অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে তার পুনরাবৃত্তি না করার পাপাপোক্ত ইচ্ছা পোষণ করার নামই হলো তাওবা।

তাওবা কবুল হওয়ার শর্তগুলো কি কি

কোন ব্যক্তি হযরত আলী রাঃ কে জিজ্ঞেস করলেন তাওবা কি জিনিস?
তিনি উত্তরে বলেন ছয়টি বিষয়ের একত্র সমাবেশ কে তাওবা বলে আর তা হলো
(১) প্রকৃত মন্দ কর্মের জন্য অনুশোচনা করা। অর্থাৎ অনুতপ্ত হওয়া যে আল্লাহ আমাকে দিয়ে মে  মারাত্মক গুনাহ হয়ে গেছে এজন্য আমি লজ্জিত আমি অনুতপ্ত নিজেকে নিজে ধিক্কার দেয়া ইত্যাদ।

(২) যেসব ফরজ ও ওয়াজিব কর্ম তরক করা হয়েছে অর্থাৎ যে সকল ফরজ বিধান যেমন নামাজ রোজা ইত্যাদি সময় মত আদায় করা হয়নি এগুলোকে কাজা করে নেয়া।
(৩) কারো ধন-সম্পদ ইত্যাদি অন্যায় ভাবে জুলুম করে গ্রহণ করে থাকলে তা আসল মালিক কে ফিরিয়ে দেয়া।
(৪) কাউকে হাতে অথবা মুখে কষ্ট দিয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেয়া
(৫) ভবিষ্যতের সেই গুনার ধারে কাছেও না যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করা।
(৬) নিজেকে যেমন আল্লাহ তাআলার নাফরমানি করতে দেখেছিল তেমনি ভাবে এখন অনুগত্য করতে দেখা।

তাওবা যদি একমাত্র অন্তরের অন্তস্থল থেকে বের হয় তাহলে আল্লাহ তাআলা তা কবুল করে থাকেন তাকেই বলা হয় তাওবায়ে নাসুহা অর্থাৎ খালিস তাওবা।
যেমনটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনের ভিতর এরশাদ يا ايها الذين امنوا توبوا الى الله توبه نصوحا، عسى ربكم ان يكفر عنكم سيئاتكم ويدخلكم جنات تجري من تحتها الانهار
অর্থ হে ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহ পাকের কাছে তওবা কর আন্তরিক তওবা। আশা করা যায় তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের গুনাহসমূহ কে মোচন করে দিবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশে নদনদী প্রবাহিত ।

খাঁটি তওবার একটি ঘটনা।

হযরত মুসা আলাইহিস সালামের যুগে একবার অনেক দুর্ভিক্ষ দেখা দিল, বৃষ্টি হচ্ছে না। কমের লোকেরা হযরত মুসা আলাই সালাম এর নিকট এসে বৃষ্টির জন্য দোয়া করার আবেদন জানালেন

 হযরত মুসা আলাই সালাম তার 70 হাজার উম্মতকে নিয়ে একমাঠে উপস্থিত হয়ে সকলে মিলে নামাজ আদায় করলেন অতঃপর দোয়া করলেন।

 কিন্তু কোন ধরনের বৃষ্টি হলো না বরং রোদ্রের তাপ আগে যেমন ছিল তার থেকে আরো প্রখর হয়ে গেল। হযরত মূসা আলাইহিস সালাতু সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট জানতে চাইলেন ওগো মাওলা আমি আমার ৭০ হাজার উম্মতকে  সাথে নিয়ে আপনার নিকট বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করলাম।

 কিন্তু বৃষ্টি তো হলোই না বরং রোদ্রের তাপ আগে যেমন ছিল তার থেকে আরো বেড়ে গেল, তার কারণ কি কিছুই তো বুঝতে পারলাম না।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন ও আমার নবী মূসা তোমাদের মধ্যে আমার এমন একজন নাফরমান বান্দা রয়েছে, যে ৪০বছর পর্যন্ত কেবল আমার নাফরমানি করেছে ৪০ বছরের মধ্যে একটিবারের জন্য আমার ইবাদত বন্দেগী করেনি।

এমন নাফরমান বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি বৃষ্টি দিবোনা।
হযরত মুসা আলাই সালাম লোকদের মাঝে ঘোষণা করে দিলেন, কে সেই নাফরমান!  যে চল্লিশ বছর পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নাফরমানি করেছ

 আল্লাহ তাআলার কোন হুকুম পালন করনি। তুমি এখনোই বের হয়ে যাও। কারণ তোমার কারনে সমস্ত মানুষ কষ্ট পাচ্ছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বৃষ্টি দিচ্ছেন না।

সত্যিকারের অপরাধী লোকটি বুঝিতে পারল যে আমার কারণেই বৃষ্টি হচ্ছে না। তাই সে ডানে বামে সামনে পিছনে তাকাতে লাগলো। এবং চিন্তা করতে লাগলো যদি আমি এই মজলিস থেকে বের না হই তাহলে আল্লাহ তাআলা বৃষ্টি দিবেন না।

 আর আমার কারনে সমস্ত মানুষ কষ্ট পাবে আর আমি যদি এই মজলিস থেকে বের হয়ে যাই তাহলে আমি সবার কাছে পরিচিত বড় একজন গুনাগার হিসাবে চিহ্নিত হয়ে যাব।

এই কথা ভেবে সে অত্যন্ত অনুনয় বিনয় করে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট লজ্জিত হয়ে দোয়া করলেন যে আল্লাহ ৪০ বছর পর্যন্ত তোমার নাফরমানি করেছি। আর তুমি সুযোগ দিয়েছো। আমি এখন তোমার নিকট খাঁটি মনে তওবা করতেছি তুমি আমাকে মাফ করে দাও।

লোকটির তওবা করা শেষ হতে না হতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বৃষ্টির ব্যবস্থা করে দিলেন।
হযরত মূসা আলাইহিস সালাতু আসসালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকটা আরজ করলেন ওগো আল্লাহ, আপনি বলেছেন আপনার নাফরমান বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মধ্য হতে যবের না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি বৃষ্টি দিবেন না।

 কিন্তু আমাদের মধ্য থেকে তো এখনো কেউ বের হয়নি কিন্তু আপনি বৃষ্টির ব্যবস্থা করলেন। দয়া করে এর কারণ আমাদেরকে জানান। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মূসা আলাইহিস সালাতু সালাম কে জানিয়ে দিলেন হে আমার নবী মুসা আমি যেই আমার নাফরমান বান্দার কারণে বৃষ্টি দিচ্ছি না সে খাঁটি মনে তাওবা করেছে এই জন্য আমি বৃষ্টির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। 

হযরত মূসা আলাইহিস সালাতু সালাম জানতে চাইলেন যে ওগো মাওলা আপনি যে  বান্দার তওবা কবুল করেছেন দয়া করে আমাদেরকে  এ ব্যক্তি সম্পর্কে অবগত করুন। 

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন হে মুসা আমার এই নাফরমান বান্দা চল্লিশ বছর পর্যন্ত গুনা করা সত্ত্বেও আমি তাকে মানুষের সামনে প্রকাশ করিনি এখনো আমি তাকে তোমাদের কাছে প্রকাশ করবো না।
(والله اعلم بالصوت)
কিতাব: মারেফাতের সাগর।

তাওবার ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের বাণী।

(১) আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনের মধ্যে এরশাদ করেন
يا ايها الذين امنوا اتوبوا الى الله توبه نصوحا،عسى ربكم ان يكفر عنكم سيئاتكم ويدخلكم جنات تجري من تحتها الانهار (سورة التحريم٧)
অর্থাৎ এই ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট আন্তরিকভাবে তওবা করো। আশা করা যায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাদের পাপ সমূহ মোচন করে দিবে। এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদ-নদী প্রবাহিত।
এই আয়াত দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম যে তাওবার কত ফজিলত।
একজন বান্দা যত বড়ই গুনাগার হোক না কেন, যত বড় অপরাধ সে করুক না কেন, চাই কুফরি হোক, চাই তা বিদআত হোক চাই তা মূর্তি পূজা, যত বড় বড় গুনাই হোক না কেন। 

যদি সে গুনাহর সাগরেও হাবুডুবু খায়, এবং গুনাহ দিয়ে যদি সে আকাশ পর্যন্ত  পরিপূর্ণ করে ফেলে, অতঃপর যদি সে অনুতপ্ত হয়ে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর নিকট খাঁটি মনে তাওবা করে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তিনার সকল গুনাহগুলো মাফ করে দেন।
এইজন্য আমাদের গুনাহ হয়ে গেলে অতি দ্রুত খাঁটি মনে তওবা করা একান্ত জরুরী।

(২) আল্লাহপাক আরো ইরশাদ করেন قل يا عبادي الذين اسرفوا على انفسهم لا تقنطوا من رحمة الله ان الله يغفر الذنوب جميعا انه هو الغفور الرحيم

অর্থাৎ হে রাসূল আপনি বলুন, আমার ঐ সকল যারা নিজেদের প্রতি সীমালঙ্ঘন করেছো, তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের রহমত থেকে নিরাস হবেনা। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাদের সকল গুনাহগুলো মাফ করবেন। নিশ্চয় তিনি অত্যন্ত ক্ষমা শীল ও দয়ালু।

বর্ণিত আয়াতের মর্মে কবী ফরিদ উদ্দিন আত্তার রহমাতুল্লাহ আলাইহি নিজের  ফান্দে নামা কিতাবে লিখেন।

امید از رحمتت شیطاں بود

                بحر الطاف تو بے پایہ بود

مغفرت دارد امید از لطف تو

             زانکہ خود فرمودہ لا تقنطوا

অর্থাৎ হে  মহা মহিয়ান খোদা, তোমার দয়ার সাগরের কোন কুল কিনারা নেই, তোমার রহমত থেকে একমাত্র শয়তানই নিরাশ হতে পারে।

 আমি তোমার দয়ার দ্বারা মাফের আশা রাখি, কেননা তুমি তো নিজেই ঘোষণা করেছ "হে আমার বান্দারা তোমরা আমার রহমত থেকে নৈরাশ হয়ো না।"

গুনাহগারের প্রতি আল্লাহ তাআলার আহ্বান

অনেকে বলে থাকে আরে আমি তো মহা পাপী, আল্লাহ পাক  আমার দোয়া কবুল করবেন না। আমি বারবার তওবা করি এবং বারবার ভঙ্গ করি। আল্লাহ পাক আমাকে কি করে ক্ষমা করবেন।
  তার কথাগুলোকে বড় বিনয় বলে মনে করা হলেও কিন্তু হযরত আশরাফ থানবী রাহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন বাহ্যিকভাবে তাকে বিনয় বলে মনে হলেও সে চরম অহংকারী কেননা সে নিজের গুনাহ কে আল্লাহর রহমতের চেয়েও বেশি মনে করেছে অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন
ادعوني استجب لكم ان الذين يستكبرون عن عبادتى  سيدخلون جهنم داخرين
অর্থাৎ হে আমার  বান্দারা তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। যারা আমার এবাদত তথা দোয়া করতে অহংকার করে,তারা অতি তাড়াতাড়ি জাহান্নামে অপমানিত হয়ে প্রবেশ করবে।

আল্লাহতালা উপরোক্ত আয়াতের দ্বারা তার বান্দাদেরকে নিজ রহমতের দিকে ডেকেছেন। তার রহমতের দরিয়া অতল , অসীম, অতুলনীয়।  

তাওবা সম্পর্কে হাদীসের বাণী
(১) হযরত হারেস ইবনে সুয়াঈদ বলেন, আমাকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু দুটি কথা বলেছেন। একটি রাসুলুল্লাহ সাঃ এর পক্ষ থেকে অপরটি নিজের পক্ষ থেকে।
দিদি বলেছেন মুমিন ব্যক্তির নিজের গুনাহকে এমন মনে করে যেন সে কোন পাহাড়ের নিচে বসা। যা সে তার উপর ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করে।

পক্ষান্তরে গুনাহগার ব্যক্তি নিজ গুনাহকে এমন ভাবে দেখে যেন একটি মাছি তার নাকের উপর বসলো এবং সে তা আপন হাতের ইঙ্গিতে তাড়িয়ে দিল।

তারপর তিনি বলেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তার মুমিন বান্দাদের তাওবায় ওই ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক খুশি হন, যে কোনো এক ধ্বংসকারী মরুভূমিতে পৌঁছেছে, তার সাথে তার প্রিয় বাহন রয়েছে বাহনের উপর রয়েছে তার খাদ্য ও পানীয় সামগ্রী।
সে সেখানে জমিনে মাথা রেখে সামান্য ঘুমালো, তারপর জেগে দেখলো, তার বাহন ভেগে গেছে। তারপর সে তা তালাশ করতে লাগলো। অবশেষে তাপ তাপ ও পিপাসা এবং কষ্ট যা আল্লাহর মর্জি তাকে কাতর করে ফেলল।
তখন সে সিদ্ধান্ত নিল যে আমি যেখানে ছিলাম সেখানে গিয়ে শুয়ে থাকব যতক্ষণ না মরে যাই। সুতরাং সে সেখানে আপন বাহুর উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়ল যাতে সে মরে যায়।
এ সময় হঠাৎ জেগে দেখে তার বাহন তার নিকটে। তার উপর পাথেয় ও পানীয় রয়েছে। এ ব্যক্তি তার বাহন ও পাথেয় পেয়ে যেমন খুশি হয়েছে আল্লাহ পাক তার মুমিন বান্দার তওবায় তা অপেক্ষা অধিক খুশি হয়।
(২) অন্য একটি হাদিসের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন।
من لزم الاستغفار جعل الله له من كل ضيق مخرجا ومن كل هم فرجا ورزقه من حيث لا يحتسب

অর্থাৎ যে সর্বদা ক্ষমা চায় আল্লাহ তা'আলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা থেকে একটি পথ বের করে দেন এবং প্রত্যেক চিন্তা থেকে তাকে মুক্তি দেন আর তাকে রিযিক দান করেন এমন স্থান থেকে যা সে কল্পনাও করেনি।
(৩) অপর এক হাদিসের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন
كل بني ادم خطاء وخير الخطائين التوابون

অর্থাৎ প্রত্যেক আদম সন্তান অপরাধী আর উত্তম অপরাধী তারাই যারা তাওবা করে ।
(৪) অন্য একটি হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন
التائب من الذنب كمن لا ذنب له
গুনাহ থেকে তাওবা কারী ঐ ব্যক্তির ন্যায় যার কোন গুনাহ নেই।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে খাঁটি মনে তাওবা করার তৌফিক নসিব করুন আমীন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন