তাওবার চমৎকার ঘটনা।তাওবাতুন নাসুহার দারুন ঘটনা।tawbar darun gotona-tawbar fazilst

 তাওবার চমৎকার ঘটনা।তাওবাতুন নাসুহার দারুন ঘটনা।


প্রিয় বন্ধুরা। আমরা সবাই মানুষ। আর আমরা মানুষ হিসাবে সবাই ভুল কারী অপরাধ কারী। আমরা যেহেতু মানুষ তাই মানুষ হিসাবে ভুল করার এটাই স্বাভাবিক।

আর এটা কখনো উচিত নয় যে আমরা কেবল ভুল করে যাব, আর এই ভুলের জন্য কখনো আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত হবো না অনুশোচনা করব না এটা হতে পারে না।
অনেক সময় ইচ্ছায় কখনো অনিচ্ছায় কখনো শয়তানের ধোঁকায় পড়ে নফসের প্রতারণার শিকার হয়ে আমরা গুনাহ তে লিপ্ত হয়ে যাই।

 এমন গুনাহ হয়ে গেলে আমাদের অনুশোচনা করতে  হবে আমাদের দুঃখিত হতে হবে। কখনো এটা ভাবা যাবে না যে আল্লাহকে আমাকে ক্ষমা করবেন? আমি যেই গুনাহর পাহাড় মাথায় নিয়ে ঘুরতেছি এই গুনাকে আল্লাহতালা মাফ করবেন?

 আমি যেই গুনাহর সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি এই গুনা কি কখনো মাফ হবে।
হ্যাঁ অবশ্যই তা মাফ হবে যদি আপনি খাঁটি মনে তওবা করতে পারেন যদি আপনি খাঁটি মনে আল্লাহ তায়ালাকে ডাকতে পারেন যদি আপনি গুনাহ বের হওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন।

গুনাহ কারী সম্পর্কে আল্লাহর আহ্বান 

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের মধ্যে এরশাদ করেন قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا من رَّحْمَةِاللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ﴾ر
হে রাসুল আপনি বলুন, হে আমার ঐ সকল বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি সীমালংঘন করেছো তোমরা আল্লাহতালার রহমত থেকে নৈরাশ হয়ো না। আল্লাহ তাআলা তোমাদের সকল গুনাহ মার্জনা করবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমা করী ও দয়ালু।

গুনাহ কারী সম্পর্কে রাসূল সাঃএর বানী


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র হাদিস শরীফের মধ্যে এরশাদ করেন। كل بني ادم خطاء وخير الخطائين التوابين
অর্থাৎ প্রতিটি বনি আদম ভূল কারী।আর  সর্বোত্তম ভুলকারী হল ওই ব্যক্তি যে তাওবা করে।

তাওবার চমৎকার ঘটনা।এক যুবকের তাওবার ঘটনা।

এবার আসুন আমরা এক গুনাহগার এর চমৎকার তাওবা  সম্পর্কে একটি ঘটনা জেনে নেই।
হযরত মুসা আলাইহিস সালামের সময়ে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। কোথাও কোন ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে না। চারদিকে কেবলই হাহাকার। মানুষের খাদ্য নাই। গবাদি পশুর কোন ধরনের খাদ্যের ব্যবস্থা নেই।

কওমের লোকেরা হযরত মুসা আলাই সালাম এর নিকট এসে বৃষ্টির জন্য দোয়া করার আবেদন করলেন।
হযরত মুসা আলাই সালাম তার সত্তর হাজার উম্মতকে সাথে নিয়ে এক মাঠে উপস্থিত হয়ে সকলে মিলে এক জামাতে নামাজ আদায় করলেন।এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে দুই করলেন। কিন্তু কিছুতেই বৃষ্টি হলো না বরং রৌদ্রের তীব্রতা আগের থেকে আরও বেড়ে গেল।

হযরত মুসা আলাই সালাম আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন, হে আল্লাহ নামাজ আদায় করলাম আপনার দরবারে কান্নাকাটি করে দোয়া করলাম কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না কেন? দয়া করে যদি আপনি আমাদেরকে জানাতেন। আল্লাহ তাআলা বললেন তোমাদের মাঝে এমন একজন লোক রয়েছে সে ৪০ বছর যাবত একটি ভালো কাজও করেনি শুধু আমার নাফরমানী করেছে। সে নফরমান অত্যাচার জালিম যতক্ষণ তোমাদের মাঝে উপস্থিত থাকবে ততক্ষণ আমি বৃষ্টি দিব না।

হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এর কথা সকলের মাঝে ঘোষণা করে বললেন কে তুমি এমন নাফরমান, যে চল্লিশ বছর পর্যন্ত কেবল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নাফরমানি করেছো, তোমার কারণে বৃষ্টি হচ্ছে না। তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, তোমার কারনে অন্য সকল মানুষ কষ্ট পাচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে না।
নাফরমান লোকটি বুঝতে পারল যে আমার কারনেই বৃষ্টি হচ্ছে না।এখন সে ডানে বামে সামনে পেছনে তাকালো এবং চিন্তা করল যে এখন যদি আমি সকলের চোখের সামনে বেরিয়ে যাই তাহলে তো লোকেরা আমাকে চিনে ফেলবে এবং আমি হব যুগ শ্রেষ্ঠ অপমানিত।

 আর যদি এখান থেকে না বের হই বরং এখানে দাঁড়িয়ে থাকি, তাহলে বৃষ্টি হবে না আর আমি একার কারণে সকল মানুষ কষ্ট পাবে এখন আমি কি করবো?

এ কথাগুলো চিন্তা করার পর সে ব্যক্তি লজ্জিত হয়ে বলল, হে আল্লাহ আমি ৪০ বছর যাবত তোমার নাফরমানি করেছি। কিন্তু তুমি আমাকে সুযোগ দিয়েছো। আমি এখন তোমার নাফরমানি থেকে তওবা করছি তুমি আমার তওবা কবুল করে নাও। তার তওবা শেষ হতে না হতে আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেল এবং প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি বর্ষিত হল।

হযরত মুসা আলাই সালাম আরজ করলেন হে আল্লাহ তুমি বলেছ যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার নাফরমান আমাদের থেকে বের না হবে, ততক্ষণ বৃষ্টির ব্যবস্থা করবে না, কিন্তু আমাদের মধ্য থেকে তো কেউ এখনো বের হয়নি তাহলে তুমি কিভাবে বৃষ্টি দিলে।
হে আল্লাহ তুমি যদি আমাদেরকে এই ব্যাপারে জানাতে। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন যার কারণে বৃষ্টি হচ্ছিল না আমার সেই বান্দা তওবা করেছে এবং আমি তার তাওবা কবুল করেছি এ কারণেই দৃষ্টি দিয়েছি।

হযরত মুসা আলাই সালাম জানতে চাইলেন সে ব্যক্তি কে? আল্লাহ তাআলা বললেন সে যখন ৪০ বছর যাবত গুনাহ করেছে তখন আমি তার পরিচয় কারো কাছে প্রকাশ করিনি। এখন তওবা করে সে পবিত্র হয়ে গেছে এখনো তার পরিচয় প্রকাশ করব না। আমি আমার বান্দাদের কে গীবত করতে নিষেধ করেছি। আমি কিভাবে আমার বান্দার নামে গীবত করব।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে খাঁটি তাওবা করার তৌফিক নসিব করুন আমীন
 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন