গীবত থেকে বাঁচার উপায় কি? যে সকল কারণে গীবত করা জায়েজ আছে তা জেনে নিন।২০২৩

 গীবত করা থেকে বাচার উপায় কি? কোন কোন ক্ষেত্রে গীবত করা জায়েজ আছে?



আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ প্রিয় বন্ধুরা আজ আমি আলোচনা করব যে আমরা কিভাবে মানুষের গীবত করা থেকে বেঁচে থাকতে পারি সেই সম্পর্কে ।
বিপদ থেকে বাঁচার উপায়
নিজের জিহ্বা কে গীবত হতে বিরত রাখার চিকিৎসা বা উপায় হল আমাদের এই কথা বিশ্বাস করতে হবে যে গীবতের কারণে মানুষ আল্লাহ পাকের অসন্তুষ্টির শিকার হয়।
এই বিষয়ে বহু হাদিস ও বুযুর্গানে দ্বীনের উক্তি রয়েছে গীবতের কারণে নিজের কষ্টে অর্জিত নেক সমূহ বরবাদ হয়ে যায়। কেননা যেই ব্যক্তির গীবত করা হয় সে ব্যক্তিকে গীবতকারের নেকি সমূহ দিয়ে দেয়া হয়।

গীবত কারীর আমলনামায় যদি কোন ধরনের নেকি না থাকে তাহলে যে ব্যক্তির গীবত করেছে তার গুনা সমূহ গীবতকারের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়।
এছাড়াও গীবতকারীকে নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণকারীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে আর মানুষের পক্ষে এমন কাজ অপেক্ষা নিকৃষ্ট অপমান আর কি হতে পারে?

কোন মানুষের আমলনামায় যদি নেকি বৌদি উভয়টাই বিদ্যমান থাকে আর বৌদির পাল্লা যদি সামান্য ভারি হয়ে যায় তাহলে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এমনিভাবে কোন ব্যক্তির নেতিবাধি উপায় পাল্লা যদি বরাবর হয় আর গীবত করার কারণে একটি নেকিও গীবতকৃত ব্যক্তিকে দিয়ে দেয়া হয় অথবা একটি বুদ্ধি এসে বৌদির পাল্লায় যুক্ত হয় তাহলে ওই সময় মাত্র মাত্র একটি নেকির অভাবে তাকে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে।

এক ব্যক্তি হযরত হাসান রহমাতুল্লাহ আলাইহি কে জিজ্ঞাসা করল যে আমি শুনেছি আপনি নাকি আমার গীবত করেছেন তিনি সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলেন যে তুমি আমার নিকট এমন কোন মহান ব্যক্তি নও যে আমার নেকি গুলো আমি তোমাকে দিয়ে দিব মোটকথা হলো মানুষের গীবত করা নিজের ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে বড়ই ক্ষতি কর। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে গীবত করা জায়েজ আছে

যে সকল ক্ষেত্রে গীবত করা জায়েজ আছেঃ

এখন আমরা জেনে নিব, যে কোন কোন সময় মানুষের গীবত করা জায়েজ আছে।
** যদি কোন মজলুম ব্যাক্তি কোন জালেমের দ্বারা জুলুমের শিকার হয়, সেই ব্যক্তি এই জালেমের ব্যাপারে এমন ব্যক্তিকে বলতে পারবে যে এই জালিমের ব্যাপারে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

আর যদি এই মজলুম ব্যক্তি ওই জালেমের ব্যাপারে এমন কোন ব্যক্তির কাছে বলে যে ব্যক্তি কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না তাহলে এটাও গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে।
** বিদয়াত কারীর গীবত করা। কোন ব্যক্তি থেকে শরীয়তের খেলাফ তথা শিরক বিদআত কুফর ইত্যাদি প্রকাশ পেলে, সমাজের লোকদেরকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে তার এ সমস্ত শরীয়ত বিরোধী কর্মকান্ড জনসমাজের কাছে তুলে ধরা একটি জায়েজ আছে। এবং তা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

** মুফতী থেকে কোন বিষয়ে ফতোয়া চাওয়ার সময় বাস্তব অবস্থা প্রকাশ করা। যদি বাস্তব অবস্থা প্রকাশ করতে গিয়ে কারো গীবত করতে হয় তাহলেও তা করা জায়েজ আছে।
** কোন ব্যক্তি যদি কারো সাথে বিবাহ সাদি অথবা বেচাকেনার লেনদেন করে, আর তুমি জানতে পারলে যে এই লেনদেনের মধ্যে অজ্ঞতার কারণে কোন এক পক্ষের ক্ষতি হওয়াটা নিশ্চিত।তাহলে এই ক্ষেত্রে ক্ষতি থেকে বাঁচানোর জন্য বাস্তব অবস্থা বর্ণনা করা গীবত হবে না।

** যদি কোন ব্যক্তি শুধু কোন ত্রুটিযুক্ত নামের দ্বারাই প্রসিদ্ধি লাভ করে, যেমন কোন ব্যক্তি কানা অথবা ল্যাংড়া তাহলে মানুষের কাছে তার ঠিকানা বলার সময় এসব প্রসিদ্ধ নামের ব্যবহার করলে গীবত হবে না। তবে হ্যাঁ দ্বিতীয় অন্য কোন নামে সম্বোধন করা উত্তম যদি সে নাম জানা থাকে।
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে গীবতের মত মারাত্মক কলবের রোগ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন আমীন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন