কুরআন ও হাদিসের আলোকে মধুর উপকার।
🍯🍯🍯🍯🍯🍯🍯
মানবজাতির জন্য আল্লাহ তাআলার দেওয়া নেয়ামতের মধ্যে অন্যতম একটি নিয়ামত হল মধু।
মধু মৌমাছির গুরুত্ব মানবজীবনে ওপরসীম। এই কারণে পবিত্র কুরআন মজিদের একটি সূরা মৌমাছির নামে নামকরণ করা হয়েছে সূরা নাহলে মৌমাছির গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহতালা বলেন।
ثُمَّ كُلِى مِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ فَٱسْلُكِى سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا ۚ يَخْرُجُ مِنۢ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَٰنُهُۥ فِيهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لايَةً لِّقَوْمٍۢ يَتَفَكَّرُونَ
অর্থ: এরপর প্রত্যেক ফল থেকে কিছু কিছু আহার করো, তারপর তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ কর। তার পেট হতে নির্গত হয় বিভিন্ন বর্ণের পানীয় যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য, রয়েছে নিদর্শন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য (সূরা নাহল ৬৯)
মধু সম্পর্কে রাসূল সাঃ বলেছেন-মধু অনেক রোগের শেফা। তাইতো যুগে যুগে মধু নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। আর ইহা থেকেই জানা গেছে মধুর সকল ধরনের পুষ্টি ও উপাদান সম্পর্কে।
**মধুর কার্যকর উপাদান
ফুলের বিদ্যমান মধু সাধারণত পাতলা এবং পচনশীল। কিন্তু পরবর্তীতে মৌমাছি এই মধু আহরণ করে ঘন, উচ্চশক্তি সম্পন্ন এবং সহজে পচেনা এমন এক প্রকার তরলে পরিবর্তন করে।
এবং রং হালকা হলুদ থেকে গাঢ় লাল আম্বর পাথরের মত। তবে কখনো কখনো কিছুটা কালচে রঙের ও হতে পারে।
মধুতে আছে ৮২.৪%শর্করা জাতীয় যৌগ যার মধ্যে ৩৮.৫%ফ্রুক্টোজ ও ৩১% গ্লুকোজ প্রধান উপাদান হিসেবে বিদ্যমান।
এছাড়াও মধুতে আছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ ও এমাইনো এসিড।
আধুনিক বিশ্বের বিজ্ঞানীরাও মধুকে সর্বরোগের ঔষধ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন বস্তুর সাথে মধুর ব্যবহার নানাবিধ রোগে কার্যকর। ১৯৯৫ সালের ১৭ জানুয়ারি কানাডার "উইকলি ওয়াল্ড নিউজ" নামক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত পশ্চিমা গবেষকগণের বেশ কিছু গবেষণায় মধুর দারুচিনির সাথে নানা রকম রোগ সারাতে মধুর ব্যবহার নিম্নরূপ:
ক্ষতপূরণে মধু 🍯
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-"তিনটে পদার্থ ক্ষতপূরণকারী এগুলো হল মধু রক্তমোক্ষম এবং দাহ্য পদার্থের ব্যবহার। কিন্তু আমার অনুসারীদের দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করতে নিষেধ করব। বুখারী শরীফ
মধু ত্বকের সমস্যা ব্রণ খোঁস পাঁচড়া এবং যেকোনো ধরনের ইনফেকশন প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
পেটের সমস্যা দূর করণে মধু
একজন মানুষ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আসলেন এবং বললেন আমার ভাইয়ের পেটের সমস্যা দেখা দিয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তাকে মধু খাওয়াতে লোকটি দ্বিতীয়বার আসলেন এবং বললেন তার ভাইয়ের পেটের সমস্যা আরো বেড়ে গেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবারো মধু খাওয়াতে বললেন। লোকটি তৃতীয়বার আসলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবারো মধু খাওয়াতে বললেন। চতুর্থ বার মলোকটি আবার এসে বললেন, তাকে মধু খেতে দিয়েছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আল্লাহ সত্য কথা বলেছেন। কিন্তু তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলছে। তাকে মধু খেতে দাও। তারপর সে তার ভাইকে মধু খেতে দিল এবং তার ভাই সুস্থ হয়ে গেল (বুখারী শরীফ)
এছাড়াও মধু গ্যাস্ট্রিক আলসার আমাশয় ডায়রিয়া ও বদহজম ইত্যাদিতে উপকারী।
ক্যান্সার ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রনে 🍯
মধু যদিও বা মিষ্টি এবং অতিরিক্ত শর্করা যুক্ত, কিন্তু এটি ক্যান্সার ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ কারক হিসেবে কাজ করে।
অন্যান্য:
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বর্ণিত আছে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সকালে মধু চেটে খাবে তার কোন বড় রোগ হবে না (মিশকাত শরীফ)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ বর্ণিত আছে রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমরা দুটি শেফা দানকারী বস্তুকে নিজের জন্য আবশ্যকীয় করে নাও একটি মধু এবং অপরটি আল কুরআন(মিশকাত শরীফ)
আল্লাহ তায়ালার তাঁর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে আজ থেকে প্রায়১৪০০ বছর আগে আমাদেরকে সুস্থতার যে পরশমনির সন্ধান দিয়েছেন। আজকের এই উন্নত বিশ্বের বহু গবেষণা ও পরীক্ষা দ্বারা স্বীকৃত সেই মহৌষধের দ্বারা আসুন আমরা উপকৃত হই এবং রোগ মুক্ত থাকি।