হযরত আজরাইল আঃ এর মৃত্যু কিভাবে হবে।
কিয়ামতের সময় যখন আল্লাহ তাআলার নির্দেশে, হযরত আজরাইল আঃ সমস্ত মাখলুকের প্রাণ বাহির করে নিবেন। তখন আল্লাহ তাআলা আজরাইলকে, বিশাল পানি রাশিকে ধ্বংস করার জন্য নির্দেশ দিবেন।
তখন আজরাইল বিকট আওয়াজে চিৎকার করিয়া বলবেন। এ পানি রাশি! তোমাদের সময় ফুরিয়ে গেছে । অতএব তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও।
তখন পানি আর্তনাদ করার জন্য অনুরোধ করবে। অনুমতি পাবার পরে চিৎকার বলতে থাকবে।
কোথায় আমার তরঙ্গরাজি? কোথায় আমার আশ্চর্য বস্তুসমূহ? আল্লাহ পাক তোমাদের ধ্বংসের নির্দেশ জারি করেছেন। সুতরাং তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও। তখন সমস্ত পানিরাশি ধ্বংস হয়ে যাবে। এমনকি মনে হবে যে পৃথিবীতে কোন পানিই ছিল না।
হযরত আজরাইল আঃ পাহাড় গুলোর কাছে গিয়ে বলবেন। হে পর্বতমালা! তোমাদের ধ্বংসের সময় এসে গেছে, তোমাদের সময় শেষ হয়ে গেছে তাই তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও।
তখন পাহাড়গুলো চিৎকার দিয়ে বলবে, কোথায় আমার শক্তি বল? তোমাদের ধ্বংসের নির্দেশ এসে গেছে। তাই তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও।
তখন আজরাইল আলাইহিস সালাম, পাহাড়ের শীর্ষ ে এমন বিকট আওয়াজ দিবেন, যার ফলে পাহাড়গুলো আগুনের তাপে গলিত সীসার ন্যায় গলিয়া যাইবে।
তখন আজরাইল আলাইহি সালাম পৃথিবীতে লক্ষ্য করে বলবেন। হে পৃথিবী! তোমাদের সময় ফুরিয়ে গেছে, তোমাদের ধ্বংসের নির্দেশ এসে গেছে, অতএব তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও।
তখন পৃথিবী ক্রন্দন করার অনুমতি নিয়ে চিৎকার করে বলবেন। কোথায় আমার বুকে গচ্ছিত ধন- রাশি
কোথায় আমার তরুলতা গাছগাছালি? কোথায় নদ নদী পাহাড় পর্বত? তোমাদের ধ্বংসের সময় এসে গেছে।
তখন আজরাইল আলাইহিস সালাম ভূ গর্বের নিচ দিয়ে এমন চিৎকার দিবেন, যার কারনে সমস্ত পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।
অতঃপর আজরাইল আলাইহি সালাম আকাশে আরোহন করে এমন গর্জন করবে, যার কারনে চন্দ্র ও সূর্যের পূর্ণ গ্রহণের সূচনা হবে। তারকা গুলো খাসিয়া পড়ে যাবে।
সবকিছু ধ্বংস হবার পরে, আল্লাহ তায়ালা হযরত আজরাইলকে জিজ্ঞেস করবেন। হে আজরাইল! আর কে বাকি আছে? তখন আজরাইল বলবেন ওগো আল্লাহ! হযরত জিব্রাইল, ইসরাফিল, মিকাঈল, আরশ বহনকারী ফেরেশতা,এবং আমি নিকৃষ্ট বান্দা বাকি আছি।
তখন আল্লাহ তাআলা আরশ বহনকারী ফেরেশতা, জিব্রাইল মিকাইল ইসরাফিল আঃ এর প্রান বাহির করার নির্দেশ দিবেন। তারা সকলেই মরে যাবে। তখন শুধু হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম বাকি থাকবে।
এরপর আল্লাহ তাআলা হযরত আজরাইলকে মরার নির্দেশ দিবেন। তখন সে নিজের প্রাণ বাহির করার সময় এমন বিকট চিৎকার দিবেন। যদি ওই সময় দুনিয়াতে কোন মানুষ থাকতো, তাহলে সবাই ওই আওয়াজের প্রচন্ড তার কারণে সকলেই কলিজা ফেটে মারা যেত।
শিক্ষা: প্রিয় পাঠক ভাই বোনেরা। আমরা বুঝতে পারলাম একটা প্রাণের ই মৃত্যু হবে। কেউই থাকতে পারবেনা। হোক না সে যত বড় হোক না সে যত ছোট। আকাশে থাকো কিংবা পাতালে। জলে থাকো কিংবা স্থলে। সকলেরই একদিন মহাপরক্ষমশালী আল্লাহ পাকের দরবারে হাজির হতে হবে। এবং আমাদের কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে। তাই আসুন আমরা নিজেদেরকে সংশোধন করার চেষ্টা করি। নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জন করি।
