লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। তিন লোভীর মৃত্যু ঘটনা।

তিন লোভীর ঘটনা।


হযরত ইসা আঃ এর সময়কার একটি ঘটনা।

হযরত ইসা আঃ একবার কোথাও সফরে যাচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি এসে তাকে বললেন। হে আল্লাহর নবী! আপনি যদি আমাকে অনুমতি দেন, তাহলে আমিও আপনার সঙ্গী হব।

তিনি লোকটিকে অনুমতি দিলেন। লোকটি তার সঙ্গে পথ চলতে শুরু করল। পথ চলতে চলতে তারাও ভয়ে একটি নদীর তীরে গিয়ে নাস্তা করতে বসলেন।

হযরত ইসা আঃ এর নিকট তিনটি রুটি ছিল। তা হতে দুজনে দুটি রুটি খেলো। আরেকটি রুটি বেঁচে গেল। নাস্তা খাওয়া শেষ হলে হযরত ঈসা আঃ পানি পান করার জন্য নদীতে গেলেন।

পানি পান করে নিজের স্থানে এলেন। কিন্তু নিজ স্থানে এসে অবশিষ্ট রুটিটি আর পেলেন না। ঈসা আলাইহিস সালাম লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, রুটিটি কোথায়? লোকটি উত্তর দিল যে, আমি জানিনা।

অতঃপর হযরত ঈসা আঃ পুনরায় রওনা হলেন। সঙ্গে ওই লোকটিও চলতে লাগলো। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা দুটি বাচ্চা সহ একটি হরিণী দেখতে পেলেন। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম হরিনীটিকে ডাক দিলেন।

তার ডাক শুনে হরিণী টি বাচ্চা সহ উপস্থিত হল। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম একটি বাচ্চাকে জবাই করে তা ভুলা করলেন। এরপর ভুনা করা বাচ্চাটি নিজে খেলেন এবং সঙ্গীকে খাওয়ালেন।

সঙ্গে শেষ হবার পর, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম হরিণকে উদ্দেশ্য করে বললেন। হে হরিণ! তুমি আল্লাহ পাকের হুকুমে জীবিত হয়ে যাও। সঙ্গে সঙ্গে হরিণটি জীবিত হয়ে তার সামনে এসে দাঁড়ালো।

হযরত ইসা আঃ লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন: যে আল্লাহ তোমাকে মুজেজা দেখালেন, সে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, তুমি সত্য করে বলো রুটিটি কে নিয়েছে?

সে আগের মত জবাব দিল, জনাব! আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। অতঃপর তারা সামনে অগ্রসর হলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর, একটি বালুকাময় স্থানে গিয়ে উপস্থিত হলেন। সেখানে গিয়ে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম, কিছু বালু একত্র করলেন।

এরপর জড়ো করা বালুগুলিকে স্বর্ণে রূপান্তরিত হতে হুকুম করলেন। সাথে সাথে বালুগুলো স্বর্ণে পরিণত হয়ে গেল। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ওই স্বর্ণ গুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করলেন। আর বললেন: এক ভাগ তোমার, এক ভাগ আমার, আর এক ভাগ যে রুটি চুরি করেছে তার।

লোকটি সাথে সাথে বলে উঠলো, হে আল্লাহর নবী! আসলে রুটিটি আমিই চুরি করেছি। লোকটির মুখে একথা শোনার পর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম সকল স্বর্ণ তাকে দিয়ে তার সঙ্গ ত্যাগ করে চলে গেলেন।

হযরত ঈসা আঃ চলে যাবার পর, লোকটি খুশিতে আটখানা। বিনা শ্রমে এত স্বর্ণ লাভ করেছে এজন্য। অতঃপর সে ওই স্বর্ণগুলোকে পুটুলি বাঁধলো। পুটুলি  নিয়ে বাড়িতে রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি নিল। এমন সময় সেখানে দুজন ডাকাত এসে উপস্থিত হলো। ডাকাত দুজন তাকে হত্যা করে তার স্বর্ণ নেওয়ার ইচ্ছা করলো।

তারপর আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হল ওই স্বর্ণ তিনজনেই সমান সমান ভাগ করে নিবে। ইতিমধ্যে তাদের সকলের ক্ষুধা পেল। তাই খাবার কিনে আনার জন্য তাদের মধ্য হতে একজনকে পার্শ্ববর্তী বাজারে পাঠানো হলো।

সে পথে পথে ভাবল, এখন আমি ইচ্ছা করলে ওই দুইজনকে হত্যা করে একাই সমুদয় স্বর্ণের মালিক হতে পারি। যেমন ইচ্ছা তেমন কাজ। লোকটি বাজারে গিয়ে খাবার সংগ্রহ করল। অতঃপর তাতে বিষ মিশিয়ে তাদের নিকট রওনা হল।

অন্যদিকে স্বর্ণের নিকটে থাকা দুই ব্যক্তি পরামর্শ করল যে, ওই ব্যক্তিকে এই স্বর্ণের অংশীদার বানানোর প্রয়োজন কি? আমরা ইচ্ছা করলে তাকে হত্যা করে আমরা দুজনেই তো এই স্বর্ণ বন্টন করে নিতে পারি।

লোকটি বাজার থেকে খাবার নিয়ে তাদের নিকট আসলো। পরামর্শ অনুযায়ী তারা উভয়ে একত্র হয়ে ে লোকটির উপর আক্রমণ করে তাকে হত্যা করে ফেলল।

এবার তারা মনে মনে খুব খুশি, আহ! কি চমৎকার কৌশল। একজন অংশীদার কমানো হলো। এরপর তারা ওই স্বর্ণ বন্টন করে নিল। এবং যার যার অংশ আলাদা করে রাখল। অতঃপর ক্ষুধা নিবারণের জন্য নিশ্চিন্ত মনে আহার করার জন্য বসল।

প্রথম লোকমা মুখে তোলার সাথে সাথেই তীব্র বিষক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তাদের লাশ আর স্বর্ণ সেখানেই পড়ে রইল।

হযরত ঈসা আঃ সফর শেষ করে সেই পথ ধরেই ফিরেছিলেন। ঘটনাস্থলে এসে তিনি এই দৃশ্য দেখে সহচরবৃন্দকে বললেন: দেখো এটাই হলো দুনিয়া।

কথায় আছে, লোভে পাপ পাপে মৃত্যু। লোভ লালসার কারণেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ স্বর্ণের মালিক কেউই হতে পারল না।

শিক্ষা: এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত যে, আমরা কখনো দুনিয়ার লোভে পড়ে কারো সম্পদ হরণ করবো না। কেননা দুনিয়ার জীবন হলো অস্থায়ী, আর আখেরাতের জীবন হলো চিরস্থায়ী। চিরস্থায়ী জীবনে সুখময় থাকতে হলে আমাদেরকে এই দুনিয়ায় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণ করে চলতে হবে। তাহলে আমরা পাব পরকালের সুখ আর পরম শান্তি। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে লোভ মুক্ত জীবন গড়ার অল্পে তুষ্ট হওয়ার তৌফিক দান করুন আমীন।



          
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন