সত্যিকারের তওবাকারীর দারুন ঘটনা। দৈনিক ইসলামী বার্তা২৪

বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির তওবা কবুলের মজার ঘটনা।


বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তি, মদ জুয়া সহ নানা রকমের পাপ কাজে লিপ্ত ছিল। শহরের লোকেরা তার উপর চরমভাবে অতিষ্ঠ ছিল। তাই তাকে সবাই শহর থেকে বের করে দেয়।

বের করে দেয়ার পর সে ব্যক্তি শহরের বাহিরে একটি জনশূন্য এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানে কথা বলার মত মানুষ নেই। নেই খানাপিনা, নেই কোন ঔষধ।

ধীরে ধীরে লোকটি অসুস্থ হয়ে পড়ল। একপর্যায়ে সে মুমূর্ষ অবস্থায় পৌঁছে গেল এবং মৃত্যুর যন্ত্রণা অনুভব করতে লাগলো।  অতঃপর আকাশের দিকে ডানে বামে তাকালো, কিন্তু কোথাও কোন কিছুই দেখতে পেল না।

চারদিক থেকে যেন হতাশার হাহাকার শোনা যাচ্ছিল। হতাশ হওয়ার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো, হে আমার মাওলা! যদি আমি জানতাম যে, আমাকে শাস্তি দেয়া হলে তোমার রাজত্ব বৃদ্ধি পাবে, আর শাস্তি দেয়া না হলে তোমার রাজত্ব কমে যাবে তাহলে আমি তোমার নিকট ক্ষমা চাইতাম না।

যদি আমাকে শাস্তি দেয়ার দ্বারা তোমার রাজত্ব বৃদ্ধি না পায়, তাহলে আমাকে শাস্তি দিও না। আর যদি আমাকে ক্ষমা করার দ্বারা তোমার রাজত্বে কমতি না আসে তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দাও।

 হে আল্লাহ আমাকে তুমি ক্ষমা কর। আজ তুমি ছাড়া আমার কোন সঙ্গী সাথী নেই সবাই আমাকে ঘৃণা করে তাড়িয়ে দিয়েছে।

 হে আল্লাহ আমি মৃত্যুর সময় তওবা করছি তুমি কবুল কর সবাই আমাকে ছেড়ে চলে গেছে তুমি আমাকে ছেড়ে দিও না। এ কথাগুলো বলার পর পরই লোকটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।

 আল্লাহ তাআলা সেই জমানার নবী হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে বললেন, আমার এক বন্ধু অমুক জঙ্গলে মারা গেছে, তুমি যাও তাকে গিয়ে গোসল, জানাজা,ও কাফনের ব্যবস্থা কর এবং শহরে এই কথা ঘোষণা করে দাও যে যারা এই ব্যক্তির জানাযায় অংশগ্রহণ করবে, তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হবে।

 হযরত মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী শহরে এ কথাটা ঘোষণা করে দিলেন। দলে দলে লোক আসতে লাগলো তার জানাজার উদ্দেশ্যে। তারা এসে দেখল এ কি! এ তো সেই ব্যক্তি যাকে তারা পাপাচারের কারণে শহর থেকে বের করে দিয়েছিল।

 লোকেরা হযরত মুসা আলাই সালাম এর নিকট এ বলে অভিযোগ করল যে হে মুস া আমরা তো আপনার কথা বুঝতে পারছি না। আপনি এসব কি বলছেন? এ লোকটাই তো শহরে দুষ্কর্ম করত। যার কারণে আমরা তাকে শহর থেকে বের করে দিয়েছিলাম।

 হযরত মুসা আলাই সালাম জনগণের অনুভূতি উত্থাপন করে বললেন, হে আল্লাহ! এই লোকটা তো আপনার শত্রু, অথচ আপনি বলেছেন সে নাকি আপনার বন্ধু। ব্যাপারটা কি?

 আল্লাহ তাআলা বললেন, ওরা যা বলছে তা ঠিক আছে। আর আমি যা বলছি তাও ঠিক আছে। সে আমার শত্রু ছিল কিন্তু মৃত্যুর সময় সে কাউকে না পেয়ে অসহায় অবস্থায় আমার শরণাপন্ন হয়ে আমাকে ডেকেছে।

 তাই তাকে পাকড়াও করার ব্যাপারে আমার লজ্জা অনুভূত হলো। আমার ইজ্জতের কসম সে তো আবার নিকট শুধু নিজের পাপ মার্জনা চেয়েছে। সে যদি ওই সময় দুনিয়ার সকল মানুষের পাপ ক্ষমা চাইত, তাহলে আমি তার আবেদন রক্ষা করতাম। এবং তাকে ও অন্য সব মানুষকে একই সঙ্গে ক্ষমা করে দিতাম।

মাওয়ায়ে যে মাওলানা তারিক জামিল ২২১


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন