আশেকে রাসুল সা'দ সালীমী রাঃ এর শহীদ হওয়ার বিস্ময়কর ঘটনা।

 আশেকে রাসুল সা'দ সালীমী রাঃ এর শহীদে রাসুলের কান্না।


রাসুল প্রেমিক,সাদ সালীমী । তিনি ছিলেন অত্যন্ত কালো ও দরিদ্র সাহাবী। তিনি একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসে বসে কাঁদতেছিলেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলেন।
তখন সাদ সালমী রাঃ বললেন। হে আল্লাহ রাসুল। আমি আপনার হাতে হাত রেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি আজ আট মাস হল।

এই ৮ মাসের মধ্যে আমি মদিনার অলিতে গলিতে ঘুরে ঘুরে, কত মেয়ের মা বাবার কাছে তার মেয়েকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছি। কিন্তু আমি কালো হবার কারণে, আমার চেহারা দেখতে সুন্দর না হওয়ার কারণে, আমি দরিদ্র হবার কারণে, কোন মা বাবা তার আদরের কন্যাকে আমার থেকে বিবাহ দিতে রাজি হচ্ছে না।

 হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার সকল সুন্নাতের উপর আমল করতে পারলেও, বিবাহ নামক সুন্নত পালন না করার কারণে, না জানি আল্লাহ পাক আমাকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করে দেন। এর ভয়ে আমি কাঁদতেছি।



সাদ রাঃ এই বেদনা বিধুর কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন। হে সাদ। যাও আমর ইবনে ওয়াহাবের বাড়িতে যাও। তিনি মদিনার মধ্যে সবচেয়ে বড় জমিদার। তার একটি সুন্দরী মেয়ে আছে। যাকে মদিনার মেয়েরা হুরে মদিনা বলে থাকে। সে অত্যন্ত ধার্মিক।

তুমি গিয়ে তাকে বলবে, সে যেন তার আদরের মেয়েকে তোমার সাথে বিবাহ দেয়। সাদ সালীমী রাঃ খুশি হয়ে আমর ইবনে ওহাবের বাড়ির পথ ধরলেন। বাড়িতে গিয়ে দরজায় করাঘাত করলেন।

ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন আমর ইবনে ওহাব। জিজ্ঞেস করলেন, কি খবর কেন এসেছেন?
সাদ রাঃ বললেন, আমি রাসুলের দরবার থেকে এসেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। আপনি যেন আপনার আদরের মেয়েকে আমার সাথে বিবাহ দেন।

আমর ইবনে ওহাব তার চেহারা দেখে, তার পোশাক পরিচ্ছেদের অবস্থা দেখে, অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে তাকে নিজের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন।

সা'দ ও বাবার সকল কথাবার্তা আমর ইবনে ওহাবের মেয়ে ঘর থেকে শুনেছেন। বাবাকে বললেন, বাবা আপনি এটা কি কাজ করলেন? তিনি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবার থেকে এসেছেন। এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং এই বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন।
আপনি  কেন এভাবে তাকে তাড়িয়ে দিলেন?

বাবা এই প্রস্তাব যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। এবং তিনি যেহেতু রাসূলের সাহাবী। তাই সে জান্নাতি হবার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

 বাবা,সে  আমার স্বামী হলে, যদিও তার চেহারা দেখে চক্ষু শীতল করতে পারবোনা। কিন্তু নিশ্চিত ভাবে তার সাথে জান্নাতে একসাথে থাকতে পারবো।

আমি এই প্রস্তাবে রাজি আছি। আপনি অতি দ্রুত রাসূলের দরবারে গিয়ে ক্ষমা চান। এবং এই প্রস্তাব মেনে নেন। অন্যথায় আমাদের বিরুদ্ধে কুরআনের আয়াত নাজিল হয়ে যেতে পারে।

আমর ইবনে ওহাব রাসুলের দরবারে গিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করলেন। এবং প্রস্তাব মেনে নিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বিবাহের কাজ সম্পাদন করলেন।

সা'দ কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন। স্ত্রীর মোহর আদায় করার জন্য তোমার কাছে কি আছে? তিনি বললেন আমার কাছে কিছুই নেই।

তখন রাসূলের নির্দেশে কয়েকজন সাহাবী ছয় শত দিরহাম মোহরের ব্যবস্থা করে দিলেন। এবং বিবাহের খরচের জন্য, নতুন স্ত্রীর কাপড়-চোপড়ের জন্য আরো অতিরিক্ত দেরহামের ব্যবস্থা করে দিলেন।

এবং সাহাবীরা বলতে লাগল। হে সাদ। তোমার ভাগ্য অনেক ভালো। তুমি মদিনার জমিদার বংশের মেয়ে, মদিনার হুর কে বিবাহ করেছো। তোমার মত এমন কপাল কয়জনের ভাগ্যেই বা জোটে ।

সাদ সালীমী রাঃ নববধূর জন্য, কিছু কেনাকাটার জন্য বাজারে গেলেন। এমন সময় কে যেন ঘোষণা দিল, যে মুসলমান ও কাফেরদের সাথে লড়াই বেঁধে গেছে। সবাই যেন যুদ্ধে শরিক হয়।

সাদ সালীমী রাঃ যেহেতু নতুন বিবাহ করেছেন, এইজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যুদ্ধে না গিয়ে নববধূর কাছে থাকার অনুমতি দিয়ে দিলেন।
কিন্তু তিনি ঘোষণা শোনা মাত্র, নববধূর কাপড়-চোপড় দোকানে ফিরিয়ে দিয়ে, ওই টাকা দিয়ে যুদ্ধের সরঞ্জাম কিনেন। এবং মুখ ঢেকে যুদ্ধের ময়দানে চলে যান। এবং খুব বিরত্বের সাথে কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করে অনেককে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন।

অবশেষে এই আশেকে রাসুল যুদ্ধের এক পর্যায়ে মারাত্মক যখন হয়ে শাহাদাতের সুধা পান করেন।

যখন যুদ্ধের ময়দানে শহীদদের দেহগুলোকে একত্রিত করা হচ্ছিল। তখন দেখল যুদ্ধের ময়দানের এক জায়গায়, সাদ সালীমীর রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। চেহারা এমন ভাবে ক্ষত হয়েছে চেহারা দেখে চিনা যায় না সে যে সাদ। বরং হাত পা দেখে সাহাবীরা চিনতে পারল যে এতো সাদ।

সাহাবায়ে কেরাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিনার শহীদের কথা জানালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তার দেহ কোলে নিয়ে  কাঁদলেন। অতঃপর আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। অতঃপর লজ্জায় মাথা নত করে নিলেন।

হযরত আবু লুবাবা রাঃ জিজ্ঞেস করলেন। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি সাদ এর দেহ নিয়ে প্রথমে কাঁদলেন। এরপর আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। এরপর লজ্জায় মাথা নত করে নিলেন। এর কারণ কি?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন।
হে আবু লুবাবা।সাদ তার আদরের নববধূর ভালোবাসা ত্যাগ করে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মোহাব্বাতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে শাহাদাত বরণ
 করলেন। এই মায়ায় আমি কাঁদছি।

এবং আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম আল্লাহ পাক তার জন্য একটি বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। এইজন্য আমি খুশিতে হাসলাম।

আমি দেখলাম, তার জন্য জান্নাতের দরজা গুলো খুলে গেছে। এবং জান্নাত থেকে হুরেরা দৌড়িয়ে তার দিকে আসতেছে। এই জন্য যে কার আগে কে তাকে কোলে তুলে নিবেন। এবং এই  কারণে তাদের পায়ের গোছা থেকে বারবার কাপড় সরে যাচ্ছে তা দেখে আমি লজ্জায় মাথা নত করলাম।

সে দুনিয়ার বিবি ছেড়ে দিয়ে আমার মহব্বত প্রকাশ করার কারণে, আল্লাহ তাআলা তিনার জান্নাতের হূর দিয়ে তাকে স্বাগত জানালেন।

শিক্ষা: এই ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে, চেহারা সুরত, টাকা পয়সা এগুলো আল্লাহর কাছে কোন মূল্যবান জিনিস নয়। বরং মহাসম্পদ হল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসা। এবং তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখা। এতেই আমরা পেতে পারি দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসার মাধ্যমে উভয় জগতের কামিয়াবী নসিব করুন আমীন।






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন