মৃত্যুর পরেও সন্তান সবচেয়ে বড় সহায় সম্পদ।
মাতরাফ ইবনে শুখাইর রহঃ নামক প্রখ্যাত এক বুজুর্গ বলেন, আমি একদিন রাতে ঘুমে স্বপ্নে এক কবরস্থান দেখলাম। কবরবাসীরা কি যেন মাটি থেকে কুড়াচ্ছে।
তবে এক বৃদ্ধ লোক তাদের থেকে আলাদা। তিনি এদের থেকে একটু দূরে এক জায়গায় বসে আছেন, আমি তার নিকট এগিয়ে গেলাম।
জিজ্ঞেস করলাম, এরা কি কুড়াচ্ছে?
বৃদ্ধ বললেন, পথচারীরা কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কোরআনের কিছু তেলাওয়াত করে বা দরুদ পাঠ করে-এর সাওয়াব পৌঁছে দিয়ে যায়। এরা সেই সাওয়াবই কুড়াচ্ছে।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কেন ওদের সাথে সাওয়াব কুরাচ্ছেন না?
বৃদ্ধ বললেন-আমার এর কোন দরকার নেই। কেননা, প্রত্যেকদিন আমার নিকট বিশাল অংকের সওয়াব পৌঁছে যায়।
আমি বললাম, আপনার কেন দরকার নেই? আর প্রত্যেকদিন কতটুকু সাওয়াব আপনার নিকট পৌঁছে? এবং সেটা কিভাবে পৌঁছে?
বৃদ্ধ বললেন-আমার এক পুত্র হাফেজে কোরআন। সে অমুক বাজারে মিষ্টান্নের দোকানে মিষ্টির ব্যবসা করে। দিনভর সে বেচা কেনার সাথে সাথে পূর্ণাঙ্গ এক খতম কুরআন পাঠ করে তার সওয়াব আমার নামে পৌঁছে দেয়। এজন্য আমার সওয়াব কুড়ানোর দরকার হয় না। আমার সঙ্গে কবরবাসীদের এই সওয়াবের প্রয়োজন রয়েছে। তাই ওরা এভাবে সাওয়াব কুরায়। আর আমি এখানে বসে বসে সে দৃশ্য দেখি।
মাতরাফ ইবনে শুখাইর রহঃ বলেন, পরের দিন ভোরে ঘুম ভাঙ্গার পর ফজরের নামায আদায় করে বের হয়ে পড়লাম। সেই বাজারে চলে গেলাম। খুঁজতে খুঁজতে একটি মিষ্টির দোকান পেয়ে গেলাম। দোকানে এক যুবক মিষ্টান্ন বিক্রি করছে। আর সাথে সাথে মৃদু আওয়াজে কোরআন মাজীদ তেলাওয়াত করছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম বেটা! তুমি কি পাঠ করছো?
যুবক বললো, জি জনাব! কুরআন পাঠ করছি।
প্রত্যেকদিন কতটুকু পড়ো? আমি জিজ্ঞেস করলাম।
প্রত্যেকদিন এক খতম করে তেলাওয়াত করি জনাব! যুবক বললো।
এক খতম করে প্রত্যেকদিন কেন পড়ো? জিজ্ঞেস করলাম।
যুবক বলল, আমার পিতা আমার প্রতি অনেক বড় এহসান করে দিয়েছেন। আমি এই এসান এর কিছুটা বদলা পরিশোধ করতে চাই। আমাকে তিনি পবিত্র কুরআনের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। আমি এই পরম অনুগ্রহের বিনিময়ে দিতে চাই।
মাতরাফ বিন শুখাইর অনেক বড় আলেম ছিলেন। ছিলেন জামানার খ্যাতিমান মুহাদ্দিস, মুফাসসির এবং লেখকও। তিনি ঘটনা এ পর্যন্ত লিখে রাখলেন।
তিনি লিখেন-আরো কয়েক বছর কেটে গেল। এক রাতে আবার সেই কবর স্থান স্বপ্নে দেখলাম। কবরবাসী পূর্বের মতোই সোয়াব কুড়াচ্ছে। সাথে সেই বৃদ্ধ লোকটি ও রয়েছে। বৃদ্ধও সবার সাথে ব্যস্ত হয়ে সওয়াব কুড়াচ্ছেন।
আমার ঘুম ভাঙতেই মনে হল-আজ এই নগরে কোন কিছু হয়ে গেছে। ফজরের নামাজের পর সেই দোকানে গেলাম। আশেপাশের দোকানগুলো ততক্ষণে খুলে ফেলেছে। অথচ এই মিষ্টির দোকানটি বন্ধ। লোকজন কে জিজ্ঞেস করলাম, এই দোকানের সেই যুবক মালিক কোথায়?
লোকেরা বললো, জনাব! ছেলেটা গতকাল ইন্তেকাল করেছে।
আহা! সওয়াবের কি সুনিশ্চিত এক ধারা চলছিল। সেটা বন্ধ হয়ে গেল। আর সন্তানের পিতাও সওয়াব কুড়ানোদের দলে ভিড়ে গেলেন।
