হযরত সোলায়মান আঃ এর মন্ত্রীর মরনের ভয়ে পালানোর ঘটনা।
একদিন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম সকালবেলা তিনার এক মন্ত্রীর সাথে বসে বসে কথা বলতে ছিলেন। এমন সময় হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম মানুষের বেশে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম সোলায়মান আলাইহিস সালামের মন্ত্রীকে দেখে আশ্চর্য হয়ে ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকালেন। যখন হযরত আজরাইল আলাইহি সালাম সুলাইমান আলাই সালাম এর সাথে সাক্ষাৎ করে চলে গেলেন, তখন মন্ত্রী মহোদয় হযরত সোলাইমান আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন। হে আল্লাহর পয়গম্বর এই ব্যক্তি কে? আর কেনইবা আমার দিকে ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন, ইনিই মালাকুল মাউত আজরাঈল আঃ। তিনি আল্লাহর হুকুমে মানুষের জান কবজ করে থাকেন। এই কথা শুনে লোকটি অত্যন্ত ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে বললেন, আপনি আপনার বাতাস কে হুকুম দিন যেন আমাকে চীন দেশে দিয়ে আসে। কারণ আজরাইল আলাইহিস সালাম যেভাবে আমার দিকে তাকিয়েছে এতে আমার ভয় হয় না জানি সে আমার জান কবজ করে ফেলে। সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনাকে চীন দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন। পরের দিন যখন হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর সাথে আবার সাক্ষাৎ করতে আসলেন। তখন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম আজরাইলকে জিজ্ঞেস করলেন, ভাই আজরাইল তুমি গতকাল আমার মন্ত্রীর দিকে কেন ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলে? যার কারনে সে এ দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে এর কারণ কি? হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম বললেন হে আল্লাহর পয়গম্বর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন আপনার এই মন্ত্রীর দুপুরবেলা জান কবজ করি। এবং তার জান কবজের স্থান নির্ধারিত ছিল চীন দেশে। কিন্তু সকালবেলা তাকে আপনার নিকটে বসা দেখে আমি আশ্চর্য হলাম যে আপনার এই জায়গা থেকে চীন দেশ হাজার হাজার মাইল দূরে অথচ দুপুরবেলায় তার জান কবজ করার কথা চীন দেশে। তাহলে এত সামান্য সময় সে কি করে চীন দেশে যাবে। আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হুকুম মতো যখন তার জান কবজ করার জন্য নির্ধারিত সময়ে চীন দেশের যেখানে তার জান কবজ করার কথা সেখানে যাই তখন দেখলাম লোকটা সেখানেই উপস্থিত আছে। আর আমি সেখান থেকেই তার জান কবজ করে নিয়ে আসি।
শিক্ষা:এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে যে আমরা কে কখন মারা যাব এটা বলা যায় না কার সামনে কোন অবস্থায় আজরাইল আলাইহিস সালাম জান কবজ করার জন্য এসে উপস্থিত হবে তা আমরা কেউ বলতে পারি না। এজন্য মরার পূর্বে কবর ও পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করা আমাদের সকলের জন্য একান্ত কর্তব্য।
