সত্যিকারের নবী প্রেমিক হযরত তালহা রাঃ
তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন।
তার বাড়ি যাওয়ার পথে ইহুদী গোত্র বনু কোরাইযাদের বাসস্থান ছিল। হযরত তালহা রাঃ সে সময় অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন। রাসুল সাঃ তাকে দেখে বললেন, মনে হয় সে বাঁচবে না।
তার মৃত্যু হলে আমাকে খবর দিও, আমি এসে তার জানাজার নামাজ পড়াবো।
হযরত তালহা রাঃ এর জ্ঞান ফিরে আসার পর জিজ্ঞেস করলেন, রাসুল সাঃ কি এসেছিলেন?
তাকে বলা হল হ্যাঁ তিনি এসেছিলেন।
হযরত তালহা জানতে চাইলেন, তিনি কি বলেছেন?
তাকে বলা হলো যে রাসূল সাঃ বলেছেন, আপনার মৃত্যুর পর যেন তাকে খবর দেয়া হয়, তিনি এসে আপনার জানাজার নামাজ পড়াবেন।
একথা শুনে হযরত তালহা রাঃ বললেন-না তোমরা তাকে খবর দিও না। শোনো, পথে ইহুদীরা বসবাস করে। রাতে তিনি আসার সময় ইহুদীরা তার ক্ষতি করতে পারে। আমার মৃত্যুর পর আমাকে দাফন করে এরপর ফজরের নামাজ মসজিদে নববীতে আদায় করবে।
নামাজের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মৃত্যুর খবর জানাবে। রাতে হযরত তালহা এর মৃত্যুর পর রাতেই গোসল, কাফন সম্পন্ন করে ফজরের নামাজের কিছুক্ষণ আগে তাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হলো।
এরপর ফজরের নামাজের সময় রাসুল সাঃ কে এ খবর জানানো হলো।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি বলে এসেছিলাম আমি তার জানাজার নামাজ পড়াবো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হযরত তালহা এর আত্মীয়-স্বজন জানালেন যে, তিনি আপনাকে কষ্ট দিতে চাননি, এ কারণেই রাতে আপনাকে জানাতে নিষেধ করেছেন।
ফজরের নামাজের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত তালহা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এ দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! তালহা কে যখন তোমার দরবারে উপস্থিত করা হবে, তখন তুমি হাসিমুখে তার প্রতি তাকাবে। আর সে যেন তোমাকে দেখে হাসতে থাকে।
শিক্ষা: এ ঘটনা থেকে আমরা, এই শিক্ষা নিতে পারি। যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত যদি আমরা আমাদের অন্তরে লালন করি, যদি তিনার আদর্শে আমাদের জীবন যাপন করি, তাহলে তিনি এবং আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতি খুশি হবেন। আমাদেরকেও ভালোবাসবেন। এবং পরম সুখের ঠিকানা জান্নাতুল ফেরদাউসে আমাদেরকে স্থান করে দিবেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার প্রেম দিয়ে আমাদের অন্তরকে সাজানোর তৌফিক দান করুন।
