গীবত কাকে বলে? গীবত সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহ কি বলে?gibat ki? Qur'an o sunnar aloke gibater porinam 2023


গীবত কি? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে গীবত কারীর পরিনতি।



প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা আসুন আমরা জেনে নেই আমাদের অন্তরের একটি খারাপ রোগ গীবত সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেই।

গীবত কাকে বলে?

গীবত বলা হয় কোন মানুষের অগোচরে তার এমন কোন কথাবার্তা বলা যা শুনলে সে কষ্ট পায়।


গীবত সম্পর্কে কুরআন কি বলে?

মানুষের খারাপ আখলাক থেকে একটি হল গীবত। এই গীবত মানুষের ধ্বংসের মারাত্মক এক রোগ। পবিত্র কুরআনে গীবতকে আপন ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার সাথে তুলনা করা হয়েছে। পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ হয়েছে।
ولا يغتب بعضكم بعضاايحب احدكم أن يأكل لحم احبه ميتا فكرهتموه(سورة حجرات اية ٢٠)
তোমাদের কেউ যেন অপরের গীবত না করে। তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করে যে তার মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে? অথচ তোমরা তা অপছন্দ কর।
অন্য জায়গায় আল্লাহতালা এরশাদ করেনঃ ويل لكل همزهة لمزة
তাদের জন্য দুর্ভোগ রয়েছে যারা সামনে পেছনে মানুষের নিন্দা করে।

গীবত সম্পর্কে রাসূলের বাণী।


হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বর্ণিত আছে। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জানো গীবত কি জিনিস? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আল্লাহ তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন রাসুল সাঃ বললেন তোমার কোন ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা যায় সে অপছন্দ করে তাই গীবত।
সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন আমি যা বলি যদি তা আমার ভাইয়ের মধ্যে বিদ্যমান থাকে, তাহলে আপনার কি মতামত? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তুমি যা বলো তার মধ্যে সেটা থাকলে তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তার মধ্যে সেটা না থাকে যা তুমি বললে তখন তো তুমি তার প্রতি মিথ্যা অপবাদ রটালে।

অপর একটি হাদিসে আছে, হযরত আবু সাঈদ খুদরি ও জাবের রাযিআল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত তারা বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, গীবত জেনার চেয়ে ভয়ংকর।

 সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ গীবত জেনা থেকে ভয়ানক কিভাবে হতে পারে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন মানুষ ব্যভিচার করে তারপর তওবা করে এবং আল্লাহ অনুগ্রহ করে তার তওবা কবুল করেন।

 অপর এক বর্ণনায় আছে যে অতঃপর ব্যভিচারী তওবা করে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করেন কিন্তু গীবত কারীকে আল্লাহ ক্ষমা করেন না যতক্ষণ না যার গীবত করা হলো সে ক্ষমা করে। হযরত আনাস রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু এর বর্ণনায় আছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যেনা কারী যেনা করে তাওবা করে, কিন্তু গীবতকারের জন্যে কোন তওবা নেই।

গীবত থেকে বাঁচার উপায় কী?

নিজের জিহ্বাকে বিপদ থেকে বিরত রাখার চিকিৎসা হলো এই কথা বিশ্বাস করবে যে গীবতের কারণে মানুষ আল্লাহ পাকের অসন্তুষ্টির শিকার হয় এ বিষয়ে অনেক হাদিস ও বুজুর্গানে দ্বীনের উক্তি হয়েছে বিপদের কারণে নিজের কষ্টে অর্জিত নেকি সমূহ নষ্ট হয়ে যায় কেননা যে ব্যক্তির গীবত করা হয় কেয়ামতের দিন সে ব্যক্তিকে গীবতকারের নেকি সমূহ দিয়ে দেওয়া হবে গীবতকারের আমলনামায় যদি কোন নেকি না থাকে তবে যে ব্যক্তির গীবত করা হয়েছে তার গুনা সমূহ গীবতকারের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় তাছাড়া গীবতকারীকে নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ কারীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে মানুষ এর পক্ষে এমন কাজ অপেক্ষা নিকৃষ্ট অপমান আর কি হতে পারে। আসুন আমরা এই মারাত্মক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন