কবর কার জন্য কেমন হবে? কবরের জীবন।koborer jibon
কবর কার জন্য কেমন হবে?
কবর ঈমানদারদের জন্য আরামের সজ্জা। এবং কাফেরদের জন্য দোযখের অন্যতম গর্ত।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কবর মুমিনদের জন্য বেহেশতের অন্যতম বাগান, আর কাফেরদের জন্য জাহান্নামের অন্যতম গর্ত।(তিরমিজি শরীফ)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো এরশাদ করেন। মূ'মিন বান্দাকে যখন দাফন কাফন করা হয়, তখন কবর তাকে বলে মারহাবা তুমি তো নিজের বাড়িতেই এসেছ।
যারা আমার পিঠের উপর দিয়ে চলাচল করতো তাদের মধ্যে তুমি ছিলে আমার সর্বাধিক প্রিয়।
আজ যখন তোমাকে আমার দায়িত্বে সোপর্দ করা হয়েছে, আর তুমিও আমার কাছে এসেছ, এবার তুমি ই চোখে দেখবে, আমি তোমার সাথে কত সুন্দর ব্যবহার করি।
তারপর দৃষ্টি যতদূর যায় তত দূর পর্যন্ত কবর প্রশস্ত হয়ে যায় এবং জান্নাতের দিকে তার একটি দরজা খুলে দেয়া হয়।
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে দাফন করা হয়, তখন তাহার নিকট দুইজন ফেরেশতা আগমন করে।
তাদের দেহ কাল ও চোখ দুটি নীল বর্ণ। ইহাদের একজনকে মুনকার ও অপরজনকে নকীর বলা হয়। তাহারা মৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমাদের মতামত কি? যাহাকে তোমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল।
যদি মাইয়াত মুমিন হয়, তাহা হইলে সে বলে তিনি আল্লাহ পাকের বান্দা ও তাঁর রাসূল সাঃ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই, এবং নিঃসন্দেহে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তায়ালার বান্দা ও রাসূল।
জবাব শুনে ফেরেশতাগণ বলে আমরা জানতাম যে তুমি এরূপ উত্তর দিবে অতঃপর তাহার কবরকে চারদিকে ৭০ হাত পর্যন্ত প্রশস্ত করে দিয়ে, আলোকিত করে দেওয়া হয়।
এরপর তাহাকে বলা হয় এখন তুমি আরামের শহীদ ঘুমাইয়া থাকো, জবাবে সে বলে আমি তো এখন আমার পরিবারের লোকজন দিগকে আমার অবস্থা জানাইতে যাইবো।
ফেরেশতাগণ বলেনঃ এখানে আসিয়া কাহারো যাওয়ার নিয়ম নাই। নববধূকে যে রূপে তাহার স্বামী ছাড়া অপর কেউ জাগাতে পারে না, তুমিও অনুরূপ নিশ্চিন্তে ঘুমাইতে থাকো।
সুতরাং কিয়ামতের দিন কবর হইতে উঠানোর পূর্ব পর্যন্ত সেখানে সে নিশ্চিন্তে আরামের শহীদ অবস্থান করিতে থাকে।
আর যদি মৃত ব্যক্তি মুনাফিক বা কাফের হয়, তাহলে মুনকার ও নকীরের উত্তরে বলে, লোকজনকে যাহা বলিতে শুনিয়াছি আমিও তাহাই বলিয়াছি এর অধিক আমার আর কিছুই জানা নাই।
তাহার কথা শুনিয়া ফেরেশতাদ্বয় বলেন আমরা খুব ভালোভাবেই জানিতাম যে তুমি এর উত্তরই দিবে।
অতঃপর তার কবর কে বলেন, তুমি তার জন্য সংকীর্ণ হইয়া যাও। ফলে কবর এতই সংকীর্ণ হইয়া যায় যে, কেয়ামতের দিন পর্যন্ত সে তথায় এরূপ আজাবের মধ্যে অতিবাহিত করবে।
আলোচিত হাদিস গুলোর বিবরণ হইতে ইহাই জানা গেল যে, কবরে ইমানদারগণ পরম নিশ্চিন্তে থাকবে। ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে তাদের মোটেও ভয় হবে না।
তারপর যখন নিজ অবস্থান ও জান্নাতপ্রাপ্তির কথা জানিয়ে লইবে, তখন পরিবারের লোকদেরকেও খবর দেবার জন্য, ফেরেস্তাদেরকে বলিবে আমি এখন ঘুমাবো না। পরিবারের লোকজনকে খবর দিয়া আসি।
অনন্তর নিজে উত্তম পরিনাম দেখে আনন্দের অতিশয্যে তৎক্ষণাৎই কেয়ামত কায়েমের জন্য প্রার্থনা করিবে, যেন সে অতিসত্বর জান্নাতে পৌছাইতে পারে।
যাকে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ করিবার ইচ্ছা, তাহার হুশ জ্ঞান ঠিক রাখেন। এবং তাহাকে আল্লাহ পাক সঠিক উত্তর দেবার তৌফিক দান করেন। এই মর্মে আল্লাহপাক বলেন يثبت الله الذين امنوا بالقول الثابت في الحياه الدنيا وفي الاخره অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা মুমিন দিগকে মজবুত করেন মজবুত বাক্য দ্বারা। ইহ জীবনে এবং পরকালে।
একদা হযরত ওমর রাঃ কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ওমর মানুষ যখন তোমাকে কবরে রাখিয়া মাটি দিয়া ফিরে আসিবে এবং তোমার নিকট কবরের ফেরেশতাগণ আসিয়া উপস্থিত হইবে। যাদের আওয়াজ বজ্র গর্জনের ন্যায় ভয়াবহ এবং চক্ষু বিজলির ন্যায় দৃষ্টি হরণকারী। বাস্তবেই তাহাদের অবস্থা তোমাকে প্রকম্পিত করে তুলবে। তাহারা তোমার সাথে বজ্র গম্ভীর স্বরে কথা বলিবে তখন তোমার কি অবস্থা হইবে।
হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আরজ করিলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেই দিন আমার আকল ঠিক থাকবে কি?
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আজ তোমার আকল যে অবস্থায় আছে, সেই দিনও এরূপই থাকিবে। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, তবে আমি পরিস্থিতি সামলাইয়া লইবো।